স্কুলে যৌন হেনস্তার অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিভাবকদের বিক্ষোভ
Connect with us

ভাইরাল খবর

স্কুলে যৌন হেনস্তার অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিভাবকদের বিক্ষোভ

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ শিক্ষাঙ্গনে নিরাপত্তার প্রশ্নে ফের উঠল গুরুতর অভিযোগ। পূর্ব বর্ধমানের তেজগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রী দিনের পর দিন শিক্ষক দ্বারা শ্লীলতাহানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ। শুক্রবার ওই ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় স্কুলে। ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান, এমনকি মারধরের চেষ্টাও করেন বলে খবর। পুলিশ গিয়ে কোনওক্রমে অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

অভিযোগ, ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে বেশ কিছু দিন ধরেই বিভিন্ন অছিলায় অশ্লীলভাবে স্পর্শ করতেন ওই শিক্ষক। শুধু তাই নয়, ছাত্রীর পরিবারকে বিষয়টি জানালে তাকে হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ছাত্রীর বাবা-মা প্রথমে স্কুল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালেও তাতে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ২ এপ্রিল ছাত্রীটির পরিবারের পক্ষ থেকে স্কুলের প্রধান শিক্ষককে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়। অভিযোগ, সেই অভিযোগের পরেও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি, বরং শিক্ষক আরও ভয় দেখাতে শুরু করেন ছাত্রীর পরিবারকে।

আরও পড়ুনঃ প্রকাশ্যে নোংরামি! মেট্রো স্টেশনে তরুণীর বুকে হাত

শুক্রবার একাধিক অভিভাবক স্কুলে এসে প্রধান শিক্ষকের কাছে জবাবদিহি চান। স্কুল কর্তৃপক্ষ সন্তোষজনক উত্তর না দিতে পারায় উত্তেজনা চরমে ওঠে। এরপরই অভিভাবকেরা অভিযুক্ত শিক্ষককে ঘিরে ধরেন। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, শিক্ষককে মারধরের চেষ্টা হয়। খবর পেয়ে বর্ধমান থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে থানায় নিয়ে যায়।

Advertisement
ads

ঘটনার পর স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি নিতাইচন্দ্র দাবি করেন, ছাত্রীর পরিবারকে পার্টি অফিসে যাওয়ার কথা বলা হয়নি। বরং তিনিই লিখিত অভিযোগ করতে বলেছিলেন। তাঁর কথায়, “ছাত্রীটির মা অভিযোগ জানাতে আসেননি, তাই আমি নিজেই তাঁদের বাড়িতে গিয়ে কথা বলেছি।” অভিযুক্ত শিক্ষক অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, “ছাত্রীকে শুধুই শাসন করেছি। স্নেহ করে মাথায় হাত রেখেছি, এর বাইরে কিছু করিনি।”

এ বিষয়ে জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস বলেন, “আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখানে কোনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নেই।” ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ছাত্রীর পরিবার এখনও পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি বলেই জানা গেছে। তবুও গোটা বিষয়টি ঘিরে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্কুলের ভিতরে এ ধরনের অভিযোগ ঘিরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির নিরাপত্তা ও আচরণবিধি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।