সুপারি বাগানে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী নিহত, আত্মরক্ষায় গুলি ছোড়ে খাসিয়ারা
Connect with us

নিখোঁজ

সুপারি বাগানে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী নিহত, আত্মরক্ষায় গুলি ছোড়ে খাসিয়ারা

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ মেঘালয় রাজ্যের শিলং জেলার মোশাররম থানাধীন নথরাই পুঞ্জিতে স্থানীয় খাসিয়া সম্প্রদায়ের সুপারি বাগানে অনুপ্রবেশ করে চুরির চেষ্টা চালায় একদল বাংলাদেশি। স্থানীয়দের দাবি, বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে সুপারির বাগানে চুরি করতে গিয়ে খাসিয়া গ্রামবাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা। আত্মরক্ষার জন্য খাসিয়ারা গুলি ছোড়ে, যার ফলে এক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী নিহত হন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

নিহত ব্যক্তির নাম কুটি মিয়া (৫০), যিনি বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী দোয়ারাবাজার উপজেলার বাসিন্দা। তিনি ৭ জনের একটি দল নিয়ে নথরাই পুঞ্জিতে প্রবেশ করেছিলেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের মতে, ওই সময় খাসিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন চুরি ঠেকাতে গিয়ে বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয়রা গুলি চালাতে বাধ্য হয়। এতে একজন গুলিবিদ্ধ হন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাকিরা দ্রুত পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে যান।

আরও পড়ুনঃ শান্তিচুক্তির অঙ্গীকারের মাঝেই গাজায় হামলা! ইসরায়েলের প্রতিশ্রুতি কি শুধুই কাগজে?

ঘটনাটি ভারতের সীমান্ত থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার ভেতরে ঘটেছে। বিএসএফ সূত্রে জানানো হয়েছে, সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করছে। বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) এ বিষয়ে যোগাযোগ করেছে এবং একজন ব্যক্তির নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছে। বিএসএফের ১১০ নম্বর ব্যাটালিয়নের এক কর্মকর্তা জানান, “স্থানীয় খাসিয়া সম্প্রদায়ের সঙ্গে কিছু চোরাকারবারির ধস্তাধস্তি হয় বলে তাদের অবগত করা হয়েছে। হতাহতের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত চলেছে।”

Advertisement
ads ads

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সুপারির মৌসুমে প্রায়ই সীমান্তবর্তী এলাকার কিছু বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ করে বাগানে চুরির চেষ্টা করে থাকে। এসব ঘটনায় স্থানীয়দের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এবং দুই দেশের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনার জন্ম নেয়। নথরাই পুঞ্জির এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, “আমাদের ঘরবাড়ি ও জীবিকা বাঁচাতে গেলে অনেক সময় এই ধরনের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আমরা নিজেরা শান্তিপ্রিয়, তবে নিরাপত্তা সবার আগে।”

মেঘালয়ের প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এ ধরনের বেআইনি অনুপ্রবেশ ঠেকাতে অতিরিক্ত নজরদারির পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান বিরোধী অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নিচ্ছে। ভারতের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।