জলাজমি বুজিয়ে রাজত্ব, সিন্ডিকেট নিয়েই খুন রেহানকে
Connect with us

খুন

জলাজমি বুজিয়ে রাজত্ব, সিন্ডিকেট নিয়েই খুন রেহানকে

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ বেলঘরিয়ার তৃণমূল কর্মী মহম্মদ এনায়েতুল্লা ওরফে রেহানকে খুনের ঘটনায় বড়সড় মোড়। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে—তাঁকে গুলি করা হয়েছিল দু’টি আলাদা বন্দুক থেকে। যদিও বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত ওই বন্দুকগুলি উদ্ধার হয়নি। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনায় যুক্ত এক যুবক ইতিমধ্যেই ভিন্ রাজ্যে পালিয়েছে বলে সন্দেহ, শুরু হয়েছে তল্লাশি।

গত বুধবার ভোরে বেলঘরিয়ার রাজীবনগরে তিনটি বাড়ির মাঝখানে একটি ফাঁকা জায়গা থেকে উদ্ধার হয় রেহানের গুলিবিদ্ধ দেহ। ঘটনাস্থল তাঁর বাড়ি থেকে মাত্র একশো মিটার দূরে। তদন্তকারীদের অনুমান, মঙ্গলবার রাতে চলা নেশার আসরের সময়ই এই খুনের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ইতিমধ্যেই এই মামলায় পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে। তাঁদের মধ্যে এক অভিযুক্ত অভিজিৎ দাসের স্ত্রী সোনিয়া দাস জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রেহান ফোন করে তাঁর স্বামীকে ডেকে নিয়ে যান আড্ডা দিতে। রাত সাড়ে ১১টার পরে ফের ফোন করে ডেকে পাঠানো হয়। সোনিয়ার দাবি, ‘‘রাতেই বাড়ি ফিরে এসে স্বামী ভয়ে কাঁপছিল। জানায়, মৃত্যুঞ্জয় নামে এক ব্যক্তি রেহানকে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করে।’’ এমনকি, খুন দেখে ফেলায় অভিজিতের মাথাতেও বন্দুক ঠেকিয়ে তাঁকে ভয় দেখানো হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ বেলঘরিয়ায় দুষ্কৃতীদের হামলা, তৃণমূল কর্মীকে গুলি করে হত্যা

Advertisement
ads

তদন্তে উঠে এসেছে, সিন্ডিকেটের দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রেহান ও মূল অভিযুক্ত সুশান্ত রায়ের মধ্যে বিবাদ চলছিল। এক সময় বন্ধু থাকলেও, অপরাধ জগতের বিস্তার ঘিরে দু’জনের মধ্যে সম্পর্কে ফাটল ধরে। জানা গেছে, বিহার থেকে এসে এক সময় লরি চালাতেন রেহান। সেই সূত্রে বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন এলাকায় যাতায়াত বাড়ে তাঁর। পরে স্থানীয় সুশান্ত ও অন্যদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সিন্ডিকেট ব্যবসায় নামেন তিনি।

সিন্ডিকেটের প্রভাব বাড়তে থাকলে, জলাজমি বুজিয়ে বিক্রির মতো বেআইনি কাজে প্রভাব বিস্তার নিয়ে সুশান্তের সঙ্গে রেহানের বিরোধ শুরু হয়। এমনকি, বন্দুকের বাঁট দিয়ে রেহানকে মারধরের অভিযোগে একবার গ্রেফতারও হন সুশান্ত। এরপর পুলিশের হস্তক্ষেপে বিতর্কিত জমির কিছু অংশ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই ঘটনার পর থেকেই রেহান শাসকদলের ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন। ছয় মাস আগে জলাজমি বুজিয়ে সেখানে তিনটি টিনের ঘর বানিয়ে থাকতে শুরু করেন তিনি। তবে পুলিশের নথিতে রেহান নিজেও ডাকাতির পরিকল্পনা, তোলাবাজি, মারধর-সহ একাধিক অপরাধমূলক মামলায় অভিযুক্ত।

এই খুনের ঘটনায় বেলঘরিয়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মূল অস্ত্র এবং পলাতক অভিযুক্তের খোঁজে তদন্ত জারি রয়েছে।

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement