ঔরঙ্গজেবের সমাধি সরানোর দাবিতে উত্তপ্ত মহারাষ্ট্র, নাগপুরে সংঘর্ষ
Connect with us

ভাইরাল খবর

ঔরঙ্গজেবের সমাধি সরানোর দাবিতে উত্তপ্ত মহারাষ্ট্র, নাগপুরে সংঘর্ষ

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ  ঔরঙ্গজেবের সমাধি সরানোর দাবি এবং তাঁর কুশপুতুল দাহকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মহারাষ্ট্র। সংঘর্ষের জেরে নাগপুরে একের পর এক গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, ছোড়া হয় ইঁট-পাথর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়, প্রয়োগ করা হয় কাঁদানে গ্যাসের শেলও। পুরো ঘটনার ফলে এখনো থমথমে পরিবেশ গোটা এলাকায়।

ঘটনার সূত্রপাত খুলদাবাদ থেকে, যেখানে কয়েকজন ঔরঙ্গজেবের সমাধি সরানোর দাবি তুলে মিছিল বের করে। শিবাজি মহারাজের মূর্তির সামনে থেকে শুরু হওয়া এই মিছিলেই পোড়ানো হয় ঔরঙ্গজেবের কুশপুতুল। দ্রুত সেই খবর ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এমনকি, গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে ইসলামের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরান পোড়ানো হয়েছে। এর পরই রাস্তায় নামে বিশাল জনতা, দুই পক্ষের মধ্যে বেধে যায় সংঘর্ষ। সংঘর্ষের ফলে আহত হন বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী। একাধিক গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, এমনকি দমকল বাহিনী পৌঁছালে তাদের গাড়িতেও আগুন লাগানোর অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগ করে। তবে, আহতদের কেউ গুরুতর আঘাত পাননি বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

আরও পড়ুনঃ পুকুরের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব, আদালত অবধি টানাপোড়েন, অবশেষে আত্মাহুতি বৃদ্ধের

নাগপুরের পুলিশ কমিশনার রবীন্দ্র সিঙ্গল জানিয়েছেন, “একটি ছবি পোড়ানোকে কেন্দ্র করেই এই অশান্তি ছড়িয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে এবং ইতিমধ্যেই একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।” এই ঘটনার পর নাগপুরের শান্তি রক্ষার আবেদন জানিয়েছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস। তিনি বলেন, “নাগপুর সবসময় সম্প্রীতির শহর ছিল, এখানে বিভেদের রাজনীতি বরদাস্ত করা হবে না।”

Advertisement
ads

এদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গডকড়ী বলেন, “গুজবে কান দেবেন না, শান্তি বজায় রাখুন। যারা আইন ভেঙেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রের কংগ্রেস নেতা বিজয় ওয়াদেত্তিওয়ার এই অশান্তির জন্য বিজেপিকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, “দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ তৈরি করতেই ইচ্ছাকৃতভাবে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। নাগপুরের মানুষের উচিত শান্তি বজায় রাখা এবং কোনো প্ররোচনায় পা না দেওয়া।”

বর্তমানে, নাগপুরের চিটনিস পার্ক থেকে শুক্রবারী তালাও পর্যন্ত এলাকাগুলি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে একাধিক বাড়ি ও গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। বজরং দলের দাবি, তারা শুধুমাত্র ঔরঙ্গজেবের কুশপুতুল দাহ করেছে, কিন্তু গণেশপেঠ থানায় কোরান পোড়ানোর অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এই ঘটনায় নাগপুরের মহল, কোতোয়ালি, গণেশপেঠ ও চিটনিস পার্ক এলাকায় এখনও থমথমে পরিবেশ বজায় রয়েছে।