জেলার খবর
‘স্ত্রী ঘুষ দিয়েছে, তুইও দে’— বৃদ্ধের অভিযোগে চাঞ্চল্য, পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ
চাকদহ থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) সুন্দর গোপাল রায়ের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি ও এক বৃদ্ধকে ভয় দেখানোর অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পূর্ব বক্সিপুর গ্রামের ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ সুবল চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছেন, বহু দিন ধরেই তিনি মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তাঁর স্ত্রী ও পুত্রবধূর হাতে। বারবার থানায় অভিযোগ জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি। উল্টে, পুলিশই নাকি তাঁকে চাপ সৃষ্টি করছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তাঁর।
সুবলবাবুর দাবি, এসআই সুন্দর গোপাল রায় তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ করে নির্যাতনকারীদের পক্ষ নিয়েছেন। এমনকি, তিনি নিজেও নাকি সরাসরি সুবলবাবুর কাছে ১ লক্ষ টাকা দাবি করেন। অভিযোগ আরও গুরুতর, থানার ভিতরে একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে বৃদ্ধকে ১০ টাকার ফাঁকা স্ট্যাম্প পেপারে সই করার জন্য জোর করেন এসআই। সুবলবাবু সই করতে অস্বীকার করলে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়।
এসআইয়ের কথায়, “তুই আর ওই বাড়িতে থাকতে পারবি না। ওরা আমাকে এক লক্ষ টাকা দিয়েছে। তুই যদি এক লক্ষ টাকা দিস, বা স্ট্যাম্প পেপারে সই করিস, তবেই থাকতে পারবি। না হলে তোকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে।”
বৃদ্ধ জানাচ্ছেন, বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। স্ত্রী এবং ছেলের বউ তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। তিনি রানাঘাট জেলা পুলিশের সুপারিনটেনডেন্টের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন এবং বিভাগীয় তদন্ত ও নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন। তিনি সরাসরি দাবি করেন, এসআই স্ত্রী ও পুত্রবধূর সঙ্গে যোগসাজশ করে তাঁকে বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার ষড়যন্ত্র করছেন।
🔹 এই ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে – পুলিশ যেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, সেখানে যদি কেউ তাদের দ্বারেই হয়রানির শিকার হন, তবে সাধারণ মানুষ ভরসা রাখবে কোথায়?