ভাইরাল খবর
প্রটোকলের আসন এড়িয়ে বিমানের পাশে মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপালের পাশে কেন বসলেন না?
ডিজিটাল ডেস্কঃ স্বাধীনতা দিবসের সন্ধ্যায় রাজভবনের (Raj Bhavan) ‘অ্যাট হোম’ আয়োজনে রাজ্য রাজনীতিতে খানিক অন্যরকম চিত্র ধরা পড়ল। পাশাপাশি সাজানো তিনটি লাল ভেলভেট কাপড়ে মোড়া চেয়ার— অনেকটা রাজকীয় আসনের মতো। একটিতে বসেছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (CV Ananda Bose), অপরটিতে তাঁর স্ত্রী। তৃতীয় আসনটি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) জন্য সংরক্ষিত ছিল। কিন্তু দেখা গেল, মুখ্যমন্ত্রী সেই আসনের কাছেও গেলেন না। বরং তিনি গিয়ে বসলেন খানিক দূরে, বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Biman Banerjee) পাশে।
রাজভবনের স্বাধীনতা দিবস-পরবর্তী চা-চক্রে এই দৃশ্য মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনার বাতাস বইয়ে দিল। মুখ্যমন্ত্রী এই আসন এড়িয়ে যাওয়ার কারণ প্রকাশ্যে জানাননি, আর কারও সঙ্গেও ব্যক্তিগতভাবে শেয়ার করেননি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মমতার রাজনৈতিক দর্শন বরাবরই সরলতা ও সাধারণতার পক্ষে— সাদা সুতির শাড়ি, হাওয়াই চটি, এবং আড়ম্বরবর্জিত জীবনযাপন। সেই প্রেক্ষিতে লাল ভেলভেট কাপড়ে মোড়া রাজকীয় চেয়ার তাঁর ভাবধারার সঙ্গে বেমানান।
বর্তমান রাজ্যপালের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সম্পর্ক বরাবরই রোদ-ছায়ার মতো। রাজ্যপালের দায়িত্বভার গ্রহণের সময় মুখ্যমন্ত্রী সৌজন্য রক্ষা করে তাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক মতভেদে সম্পর্ক সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে নিছক অফিসিয়াল পর্যায়ে। আমন্ত্রণ থাকে, তেমনই থেকে যায় প্রয়োজনীয় দূরত্বও।
No shortCode found
শুক্রবার বিকেল ৫টা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যপালের আমন্ত্রণে রাজভবনে পৌঁছন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ (Manoj Pant), স্বরাষ্ট্রসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী (Nandini Chakraborty) ও স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই। উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী উষা উত্থুপ (Usha Uthup)। তাঁদের সকলকে করজোড়ে স্বাগত জানান রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস ও তাঁর স্ত্রী।
এদিনের আয়োজনে হাজির ছিলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু (Biman Bose), কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য (Pradip Bhattacharya) সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। সকলের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় হয় মুখ্যমন্ত্রীর। গত কয়েক বছরের মতো এ বছরও প্রথা মেনে আয়োজন করা হয় ছোট পরিসরের অনুষ্ঠানের। তবে অতীতে যেমন রাজনৈতিক তিক্ততার কারণে অনুষ্ঠানের আবহ ম্লান হয়েছিল, এদিন তেমন অনভিপ্রেত পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
উল্লেখযোগ্য, জগদীপ ধনকড় (Jagdeep Dhankhar) রাজ্যপাল থাকাকালীন সময়ে ১৫ আগস্টের চা-চক্রেও আমন্ত্রণ রক্ষা করলেও নবান্ন-রাজভবনের সংঘাত আড়াল থাকেনি। গত বছর পুলিশ ব্যান্ডকে রাজভবনে প্রবেশে বাধা দেওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী অভিমানে অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগেই ফিরে গিয়েছিলেন। এবারের আয়োজন সেই তুলনায় অনেকটাই শান্তিপূর্ণ। রাজ্যপালও মুখ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য অতিথিদের হাসিমুখে স্বাগত জানিয়ে সৌহার্দ্যের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
রাজভবনের এই সন্ধ্যার ছবি যেমন রাজনৈতিক সম্পর্কের সূক্ষ্ম বার্তা দিয়েছে, তেমনই দেখিয়ে দিল রাজনীতির বাইরেও প্রোটোকল ও ব্যক্তিগত দর্শনের মধ্যে সূক্ষ্ম ফারাক কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।
