ডিজিটাল ডেস্কঃ প্রয়াত হলেন বর্ষীয়ান সিপিএম (CPM) নেতা ও রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ নেপালদেব ভট্টাচার্য (Nepaldeb Bhattacharya)। সোমবার গভীর রাতে, বাইপাস সংলগ্ন এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। উত্তর ২৪ পরগনার (North 24 Parganas) দীর্ঘদিনের বাম সংগঠক এবং জেলার প্রাক্তন সিপিএম সম্পাদক নেপালদেবের প্রয়াণের খবরে রাজনৈতিক মহলে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। শোকস্তব্ধ ছাত্র সংগঠন এসএফআই (SFI) থেকে শ্রমিক সংগঠন সিটু (CITU), বাম রাজনীতির প্রায় সব শাখাতেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
ছাত্রাবস্থা থেকেই বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন নেপালদেব। তিনবার এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক সহযাত্রীদের মধ্যে ছিলেন বর্তমান সিপিএম সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি (M.A. Baby) এবং প্রাক্তন সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি (Sitaram Yechury)। ১৯৮১ সালে, মাত্র ৩০ বছর বয়সে রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হয়ে নজির গড়েছিলেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ জম্মুর আকাশে ফের পাকিস্তানি ড্রোন, সেনার পাল্টা পদক্ষেপে প্রতিহত
নয়ের দশকে দলবিরোধী কার্যকলাপে জড়িয়ে কিছু সময়ের জন্য সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত হন, তবে পরে দলে ফিরে সম্মানজনক পদে আসীন হন। ২০১৫ সালে তিনি উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সিপিএম সম্পাদক হন। ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে রাজারহাট-গোপালপুর এবং ২০১৯-র লোকসভা ভোটে দমদম কেন্দ্রে প্রার্থী হলেও জয়ের মুখ দেখতে পারেননি।
গত কয়েক বছর ধরে বার্ধক্যজনিত নানা অসুস্থতায় ভুগছিলেন। শেষপর্যন্ত সোমবার (১২ মে) রাত দেড়টা নাগাদ মৃত্যু হয় তাঁর। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়েছে তাঁর শেষযাত্রা। প্রথমে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে সিটুর রাজ্য দপ্তর শ্রমিক ভবনে (Shromik Bhavan), সেখানে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাবেন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। এরপর এসএফআই রাজ্য দপ্তর ‘দীনেশ মজুমদার ভবন’ (Dinesh Majumdar Bhavan), তারপরে তাঁর লেকটাউন এবং বেলগাছিয়া ভিলার (Belgachhia Villa) বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হবে দেহ।
পরবর্তী গন্তব্য বারাসতের (Barasat) সিপিএম উত্তর ২৪ পরগনা জেলা দপ্তর। সেখানে দুপুর ১২টা নাগাদ শেষ শ্রদ্ধা জানানো হবে। এরপর তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে বারাকপুরের (Barrackpore) সিটু জেলা কার্যালয়ে। সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হবে তাঁর আদি কর্মক্ষেত্র ও বাসস্থান ভাটপাড়ায় (Bhatpara)। সেখানেই সম্পন্ন হবে শেষকৃত্য।
নেপালদেব ভট্টাচার্যের প্রয়াণে রাজ্যের বামপন্থী রাজনীতি হারাল এক অভিজ্ঞ, সংগ্রামী এবং চিন্তাশীল নেতৃত্বকে। নেতার প্রয়াণে রাজনৈতিক সহকর্মীদের মধ্যে শোকের পাশাপাশি দেখা দিয়েছে গভীর বেদনার ছায়া।