দুর্ঘটনা
হাতির হানায় দুই যুবকের মৃত্যু, বনদপ্তরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ
ডিজিটাল ডেস্ক: উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri) রাজগঞ্জ ব্লকের টাকিমারি (Takimari) এলাকায় ফের বন্য হাতির হামলায় প্রাণ গেল দুই যুবকের। বৃহস্পতিবার ভোররাতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বনদপ্তরের (Forest Department) ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত দুই যুবকের নাম তুষার দাস (Tushar Das) ও নারায়ণ দাস (Narayan Das)। তাঁরা টাকিমারির বাসিন্দা এবং একটি কীর্তনের আসরে গিয়েছিলেন। কীর্তন শেষে রাত তিনটে নাগাদ যখন তাঁরা বাড়ি ফিরছিলেন, তখন হঠাৎ এক দলছুট হাতির সামনে পড়ে যান। ঘটনাস্থলেই দু’জনকে পিষে দেয় ওই হাতিটি। অন্য চার যুবক কোনওরকমে তিস্তা ক্যানেলে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ বাঁচান।
স্থানীয় সূত্রে খবর, কীর্তনের সময়ই ৬০-৭০টি হাতির একটি বিশাল পাল বৈকুন্ঠপুর (Baikunthapur) জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বনদপ্তরের সঙ্গে মিলে হাতি তাড়াতে গিয়েছিলেন এলাকার কয়েকজন যুবক। কিন্তু আচমকা বৃষ্টি শুরু হওয়ায় তাঁরা আশ্রয় নেন। পরে বৃষ্টি থামলে বাড়ি ফেরার সময় ঘটে দুর্ঘটনা।
আরও পড়ুনঃ ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ছক বানচাল, দিল্লি থেকে ধৃত নেপালি আইএসআই এজেন্ট
অভিযোগ, যুবকেরা রাতে ফেরার আগে বনকর্মীদের থেকে আশ্বাস পেয়েছিলেন যে রাস্তায় কোনও হাতি নেই। সেই আশ্বাসে ভরসা করেই তাঁরা পথে বের হন। কিন্তু বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা যায়। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রবল ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও, মৃতদেহ ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, গত কয়েকদিন ধরেই এলাকায় হাতির তাণ্ডব চলছে। ১৪ মে এক কেরলফেরত পরিযায়ী শ্রমিকও হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে মারা যান। তারপরও বনদপ্তর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ।
স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে টাকিমারি এলাকায় বনদপ্তরের স্থায়ী ক্যাম্প গড়ে তোলা হোক এবং হাতির গতিবিধি নজরে রাখতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে নজরদারি বাড়ানো হোক।
প্রসঙ্গত, জলপাইগুড়ি জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায়শই হাতির হানার ঘটনা ঘটে। বনদপ্তর ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে সেই ঘটনা প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ ক্রমেই জোরাল হচ্ছে।
