রাজনীতি
বিডিও-র দপ্তরে উত্তাল তৃণমূল, বকেয়া টাকা নিয়ে কৃষ্ণ দাসের তাণ্ডব
ডিজিটাল ডেস্কঃ ১০০ দিনের কাজের (MGNREGA) জন্য রাজ্য সরকারের পাঠানো টাকা কোথায় গেল? এই প্রশ্ন তুলে জলপাইগুড়ি সদর বিডিও (BDO) অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভে উত্তাল হল তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ। নেতৃত্বে ছিলেন দলের এসসি-ওবিসি সেলের জেলা সভাপতি কৃষ্ণ দাস (Krishna Das)।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার, যখন সদর ব্লকের পাঁচটি গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান ও পঞ্চায়েত সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন বিডিও মিহির কর্মকার (Mihir Karmakar)। অভিযোগ, সেই বৈঠক চলাকালীন আচমকাই ক্ষোভে ফেটে পড়েন কৃষ্ণ দাস ও তাঁর অনুগামীরা। বিডিও-র চেম্বারে (Chamber) প্রবল উত্তেজনা তৈরি হয়। কর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির অভিযোগ ওঠে দাপুটে তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। পুলিশ ঘটনাস্থলে থাকলেও কার্যত নিষ্ক্রিয় ভূমিকা নেয় বলে জানা গেছে।
কী নিয়ে বিক্ষোভ?
২০২৪ সালে রাজ্য সরকার ১০০ দিনের কাজের জন্য অঞ্চল প্রতি ২ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করেছিল। কৃষ্ণ দাসের দাবি, জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের পাঁচটি গ্রামপঞ্চায়েত (Grampanchayat) সেই টাকা এখনও পায়নি। এই নিয়ে একাধিকবার প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও কোনও উত্তর মেলেনি বলে জানান তিনি।
কৃষ্ণ দাসের বক্তব্য:
“জনগণের টাকা নয়ছয় হচ্ছে। প্রতিটি বুথে মানুষ কাজ করেছেন, তাঁদের পেমেন্ট বাকি রয়েছে। এই টাকা দিতে হবে। না হলে আমরা বিডিও-র বিরুদ্ধে আদালতে (Court) যাব। আর আমি যেমন, তেমনই কথা বলি—আমি স্পিকারে কথা বলি, সেটাই আমার স্বভাব,” বলেন কৃষ্ণ দাস।
আমলাদের প্রতিক্রিয়া ও সতর্কবার্তা
বিডিও মিহির কর্মকার দাবি করেন, “যে অর্থ এসেছে, তা সরকারি নিয়ম মেনে ব্যয় করা হয়েছে। প্রয়োজনে হিসেব দেখাতে প্রস্তুত।”
তৃণমূলের জেলা সম্পাদক বিকাশ মালাকারও প্রশাসনের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, “সরকারি আধিকারিকদের (Officials) ঘেরাও করা উচিত হয়নি। দলে এই ঘটনা নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।”
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পর বিজেপি ও সিপিএম কড়া সমালোচনায় মুখর।
বিজেপি নেতা শ্যাম প্রসাদ কটাক্ষ করে বলেন, “চোরের উপর বাটপাড়ি হয়েছে। তৃণমূল ও আমলারা একসঙ্গে ১০০ দিনের টাকা লুঠ করেছে।”
সিপিএম জেলা সম্পাদক পীযূষ মিশ্রের মন্তব্য, “তৃণমূলের এই বিক্ষোভ আসলে রাজনৈতিক নাটক। প্রকৃত লড়াই আদালতের পথেই সম্ভব।”
গ্রামপঞ্চায়েত প্রধানদের অভিযোগ:
অরবিন্দ পঞ্চায়েতের প্রধান রাজেশ মণ্ডল বলেন, “টাকা এখনও পাইনি। প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ করব।”
অস্থায়ী কর্মী সুব্রত সেন ও রতন রায়ের অভিযোগ, “আমরা তালিকা তৈরি থেকে শুরু করে কাজ করেছি। এখনও পয়সা মেলেনি।”


