রাজ্যের খবর
একটাও প্রমাণ নেই , জন বার্লার বিস্ফোরক মন্তব্যের জবাবে শুভেন্দুর আইনি চিঠি
ডিজিটাল ডেস্কঃ দলবদলের পর একসময়ের সহকর্মীর বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন জন বার্লা (John Barla)। কিন্তু সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে পাল্টা দাবি করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুধু পাল্টা বিবৃতিতেই থামলেন না, বরং সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া জন বার্লার বিরুদ্ধে পাঠালেন আইনি নোটিসও।
শুভেন্দু তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ (পূর্বতন টুইটার) লেখেন, “জন বার্লা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ এনেছেন। একটিও প্রমাণ নেই তাঁর কাছে।” এই অভিযোগকে সম্মানহানিকর বলেই মনে করছেন তিনি।তাই প্রাক্তন সাংসদ বার্লাকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে আইনি নোটিস পাঠালেন শুভেন্দু। তাঁর হুঁশিয়ারি—আগামী সাত দিনের মধ্যে যদি ক্ষমা না চান বার্লা, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি, দুই ধরনের আইনি পদক্ষেপ করা হবে।
আরও পড়ুনঃ ‘পদ না পেলে রাস্তা ছাড়ব না’—বিকাশ ভবনের সামনে অনড় চাকরিহারা শিক্ষকরা
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবারই তৃণমূল ভবনে যোগদান করেন জন বার্লা, যিনি আগে বিজেপির (BJP) সাংসদ ছিলেন। দলে যোগ দিয়েই তিনি শুভেন্দুর বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন। তাঁর দাবি, “আমি চা বাগান শ্রমিকদের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে চেয়েছিলাম। মন্ত্রী থাকাকালীন রেলের সঙ্গে মিলে একটি হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নিই। জমি চিহ্নিতও হয়ে গিয়েছিল। শুধু মউ সই বাকি ছিল। কিন্তু শুভেন্দু (Suvendu) রেল মন্ত্রকের আধিকারিকদের ফোন করে সেই কাজে বাধা দেন।”
গতকাল অলিপুরদুয়ারের প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী, যাঁকে দল পুনরায় মনোনয়ন না দেওয়ায় উনি দল বদল করে চোরেদের দলে নাম লিখিয়েছেন, বিনিময়ে ওনার নতুন দলের মালিক, যাঁকে আমি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে ১৯৫৬ ভোটে পরাজিত করেছিলাম, ওনাকে খুশি করতে আমার… pic.twitter.com/ooKHDCpkVR
— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) May 16, 2025
তিনি আরও বলেন, “আমার দলের (BJP) মধ্যেই আমাকে সম্মানহানির মুখে পড়তে হয়েছে। শুভেন্দু সব কাজ আটকে দিতেন। আমি যে দলের হয়ে জিতেছি, সেই দলের নেতাই যদি উন্নয়নের পথে বাধা দেন, তাহলে আমি কেন ওই দলে থাকব?”
এই সমস্ত অভিযোগই উড়িয়ে দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী আইনি পথে মোকাবিলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর সাফ কথা—জন বার্লা যেন জনসমক্ষে ভুল স্বীকার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চান। তা না হলে আইন মেনেই তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনা ভবিষ্যতে বিজেপি-তৃণমূল দ্বৈরথকে আরও তীব্র করবে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের প্রেক্ষাপটে জন বার্লার দলবদল এবং শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশই চড়ছে।
