ভাইরাল খবর
নাবালক ছাত্রকে ওষুধ খাইয়ে হোটেলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ, গ্রেফতার শিক্ষিকা
ডিজিটাল ডেস্কঃ মুম্বইয়ের অন্যতম সেরা একটি নামী স্কুলের উচ্চপদস্থ শিক্ষিকার বিরুদ্ধে এক নাবালক ছাত্রকে (Student) এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ধর্ষণের (Rape) মতো মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মুম্বইয়ের (Mumbai) দাদর থানার পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে গ্রেফতার (Arrest) করেছে। অভিযোগের সারমর্ম এতটাই ভয়াবহ যে তা সমাজের উচ্চস্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ৩৮ বছর বয়সী ওই শিক্ষিকা, যিনি বিবাহিতা এবং সন্তানের জননী, তিনি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই জঘন্য কাজটি করেছেন। এফআইআর (FIR) অনুযায়ী, তিনি ছাত্রটিকে নিয়মিতভাবে হতাশা দূর করার ওষুধ (Anti-depressant drugs) খাওয়াতেন এবং এই ওষুধের প্রভাবে যখন ছাত্রটি (Victim) মানসিকভাবে অসাড় থাকত, তখন তাকে বিভিন্ন পাঁচতারা হোটেল (Five-star hotels) সহ একাধিক গোপন স্থানে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক যৌনকর্মে লিপ্ত হতেন। এই ঘটনায় ছেলেটির মানসিক অবস্থা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা সহজেই অনুমেয়। ছেলেটি মাসের পর মাস এই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা নীরবে সহ্য করেছে, যা তার মানসিক স্বাস্থ্যের উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে।
আরও পড়ুনঃ কন্যা বাঁচাও, মমতা হঠাও—স্লোগানে কসবা অভিযানের নেতৃত্বে শুভেন্দু অধিকারী
পুলিশ সূত্রে খবর, এই পাশবিকতার শিকার হওয়া নাবালকটির বর্তমান বয়স ১৭ বছর। শিক্ষিকার সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছিল স্কুলের পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যকলাপ (Extra-curricular activities) ক্লাসে, যেখানে শিক্ষিকা একটি ডান্স গ্রুপ (Dance group) পরিচালনা করতেন। সময়ের সাথে সাথে অভিযুক্ত শিক্ষিকা অত্যন্ত চতুরতার সাথে ওই নাবালকের বিশ্বাস এবং আস্থা অর্জন করেন। এই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তিনি তাকে একাকী আড়ালে-আবডালে নিয়ে যেতেন এবং নিজের গাড়িতে করে তুলে নিয়েযেতেন বিভিন্ন হোটেলে। সেই গাড়িটি ইতিমধ্যেই পুলিশ বাজেয়াপ্ত (Seized) করেছে। এই গাড়িতে করেই শিক্ষিকা ছেলেটিকে প্রায়শই মুম্বইয়ের বিভিন্ন বিলাসবহুল হোটেলে নিয়ে যেতেন, যার মধ্যে নামী পাঁচতারা হোটেলও রয়েছে। সেখানে পৌঁছে তিনি নাবালকটিকে মদ্যপান করাতেন অথবা উদ্বেগ কমানোর ওষুধ খাইয়ে তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলতেন, যাতে ছেলেটি প্রতিবাদ করার বা নিজেকে রক্ষা করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
আরও পড়ুনঃ ৯০ বছরে পা, দলাই লামার বড় ঘোষণা ঘিরে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন
এই বছর উচ্চমাধ্যমিক (Higher Secondary) পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরই ছেলেটি তার উপর ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ঘটনাটি পরিবারের কাছে (Family members) জানায়। শিক্ষিকার এক কাজের লোক ছেলেটির বাড়িতে এসে তাকে শিক্ষিকার সাথে দেখা করতে বলার পরই, সম্ভবত মানসিক চাপ আর সহ্য করতে না পেরে, নির্যাতিত ছাত্রটি তার বাবা-মাকে (Parents) গোটা ঘটনা খুলে বলে। ছেলেটির এই দুঃসাহসিক পদক্ষেপই এই জঘন্য অপরাধের পর্দাফাঁস করেছে।
ভুক্তভোগী ছাত্র (Victim student) জানিয়েছে যে সে দীর্ঘ মাস ধরে চুপ ছিল এই ভেবে যে শিক্ষিকা হয়তো একদিন তাকে হেনস্তা করা বন্ধ করবেন। উপরন্তু, পরীক্ষার কথা ভেবেও সে মুখ খোলার সাহস পায়নি। তার কাছের এক বান্ধবীকে (Friend) সে এই বিষয়ে প্রথম জানায়, এবং ওই বান্ধবীই তাকে স্কুলের কাউন্সেলরের (School Counselor) সাথে দেখা করার পরামর্শ দেয়। এরপরই স্কুল কর্তৃপক্ষ (School authorities) বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত পুলিশকে অবহিত করে।
দাদর (Dadar) থানার পুলিশ জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্ট (Juvenile Justice Act) সহ পকসো (POCSO) আইনের বিভিন্ন ধারায় অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। গত সপ্তাহে তাকে এবং তার এক বান্ধবীকে (Accomplice) পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে (Court) পেশ করে এবং পুলিশ হেফাজতে (Police custody) নেওয়া হয়। পুলিশ এখন এই শিক্ষিকার অন্যান্য ছাত্রদের সাথে পূর্বেকার সম্পর্ক খতিয়ে দেখছে এবং তার মোবাইল ফোন (Mobile phone) ও কম্পিউটার (Computer) থেকে তথ্য (Data) সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে।
এই ঘটনায় দেশের সেই নামীদামি স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষিকাকে অবিলম্বে সাসপেন্ড (Suspended) করেছে এবং তদন্তে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস (Assurance of cooperation) দিয়েছে। এই ঘটনা সমাজের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে শিক্ষাঙ্গনেও শিশুরা কতটা অরক্ষিত থাকতে পারে, এবং তাদের মানসিক সুস্থতার প্রতি কতটা উদাসীনতা রয়েছে। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি (Exemplary punishment) নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। ছেলেটির প্রতি হওয়া এই অমানবিক অন্যায়ের বিচার (Justice) অবশ্যই নিশ্চিত করা উচিত।
