দুর্ঘটনা
সোনভদ্র খনিধস: উদ্ধার হলো একাধিক মৃতদেহ, নিখোঁজ বহু শ্রমিক—রাতভর অভিযান
ডিজিটাল ডেস্কঃ উত্তরপ্রদেশের সোনভদ্র (Sonbhadra) জেলার ওবরা এলাকার বিল্লি মারকুন্ডি (Billi Markundi) খনি অঞ্চলে ভয়াবহ (massive) ধস নেমে মৃত্যু হল অন্তত ৩ জন শ্রমিকের (Workers)। শনিবার বিকেলের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সময় খনিতে ছিলেন প্রায় ১৮ জন শ্রমিক। ধ্বংসস্তূপের (Rubble) নিচে এখনও আটকে আছেন ১৫ জন। উদ্ধারকারী বাহিনীকে জলমগ্ন খনি ও বিশাল পাথরের স্তূপ সরাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।
উদ্ধারে ব্যবহার করা হচ্ছে রাস্তা নির্মাণের মেশিন (Road Construction Machine) ও হাইড্রোলিক সরঞ্জাম। খনির ভিতর প্রবেশের রাস্তা অত্যন্ত খারাপ হওয়ায় পাথর ও ব্যালাস্ট দিয়ে একটি অস্থায়ী পথ তৈরি করা হয়েছে। শনিবার রাত থেকেই চলছে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান।
ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আজ ভোর চারটে নাগাদ প্রথম যে মৃতদেহ উদ্ধার হয়, তাঁর নাম রাজু সিং (Raju Singh)। পুলিশ খনি এলাকায় প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। বাইরে কেউ ঢুকতে পারছে না।
খনির মালিক ছোটু যাদব (Chhotu Yadav) সহ অন্যান্য অংশীদারের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা দাবি তুলেছেন—মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। জানা গেছে, ছোটু যাদবের দুই ভাইও ওই খনিতে কাজ করতেন।
শনিবার বিকেল চারটার দিকে কৃষ্ণা মাইনিং স্টোন (Krishna Mining Stone) খনিতে ৯টি কম্প্রেসার চালিয়ে কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। সেই সময় প্রায় ১৫০ ফুট উচ্চতা থেকে পাহাড়ের বিশাল একটি অংশ ভেঙে পড়ে যায়। কয়েকজন শ্রমিক কোনওভাবে বেরিয়ে এসে খবর দেন। মুহূর্তে খনি এলাকায় শুরু হয় হইচই ও আতঙ্ক।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী সঞ্জীব গন্ড, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিএন সিং, এসপি অভিষেক ভার্মা সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের (Yogi Adityanath) নির্দেশে সেখানে যান এডিজি জোনের পীয়ূষ মর্দিয়া (ADG Piyush Mordia), মির্জাপুরের ডিভিশনাল কমিশনার রাজেশ প্রকাশ ও আইজি আরপি সিং।
তাঁদের উপস্থিতিতে রাতভর উদ্ধার অভিযান জারি রয়েছে। নিখোঁজ শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারের আশা নিয়ে কাজ করছেন রেসকিউ টিমের সদস্যরা।
