ভাইরাল খবর
অভিষেককে বাদ দিয়ে ঋতব্রতের নতুন কমিটি! রাশ ধরে রাখতে রাতারাতি পাল্টা চাল মমতার
ডিজিটাল ডেস্কঃ ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঘাসফুল শিবিরের ভরাডুবির পর থেকেই দল ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে। এবার তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা নজিরবিহীন ক্ষমতা দখলের লড়াই পৌঁছাল নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) দরজায়। দল আসলে কার—মমতার নাকি ঋতব্রতের? ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দল দখলের সমস্ত পরিকল্পনা মাটি করতে রাতারাতি বড় পদক্ষেপ নিলেন দলীয় সুপ্রিমো (Supreme Come) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোমবার বিকেলে নিউটাউনের একটি পাঁচতারা হোটেলে বিশেষ সাংগঠনিক অধিবেশন (Special Session) ডাকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুরোপুরি বাদ দিয়ে একটি নতুন জাতীয় কর্মসমিতি (National Working Committee) ঘোষণা করা হয়। এই নতুন কমিটিতে দলের চেয়ারপার্সন (Chairperson) করা হয় হাওড়ার নেতা অরূপ রায়কে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে হন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (General Secretary)। নিয়মানুযায়ী ১৫ দিনের মধ্যে এই তালিকা কমিশনে জমা দেওয়ার কথা জানান ঋতব্রত।
বিদ্রোহীদের এই পরিকল্পনা টের পেয়েই সোমবার রাতে তড়িঘড়ি পাল্টা চাল দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিউটাউনের বৈঠক চলাকালীনই কালীঘাটে বসে তৈরি হয় সংশোধিত কমিটি এবং রাতারাতি তা পাঠিয়ে দেওয়া হয় দিল্লির নির্বাচন সদনে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সই করা নতুন তালিকায় পুরনো ও বিশ্বস্ত মুখের ওপরেই ভরসা রাখা হয়েছে। এখানে চেয়ারপার্সন পদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে। তবে গত ৫ জুনের কমিটিতে থাকা অরূপ বিশ্বাস, সায়নী ঘোষ ও মালা রায়ের মতো নেতাদের এই সংশোধিত তালিকা থেকে এক্কেবারে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
একই দলের দুই আলাদা জাতীয় কর্মসমিতি নিয়ে এখন তীব্র আইনি লড়াইয়ের (Legal Battle) সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কোন কমিটিকে নির্বাচন কমিশন বৈধতা দেবে, তা নিয়ে চলছে আসল দড়িটানাটানি। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন কমিশনের পর এই লড়াই শেষ পর্যন্ত আদালত (Court) পর্যন্ত গড়াতে পারে।
