উত্তর দিনাজপুর
রায়গঞ্জে স্কুলশিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ, স্ত্রীর ধর্ণায় চাঞ্চল্য
ডিজিটাল ডেস্কঃ স্বীকৃতি ও অধিকারের (Rights & Recognition) দাবিতে শ্বশুরবাড়ির (In-Laws) দরজায় ধর্ণায় বসলেন এক মহিলা, রায়গঞ্জের রায়পুর গ্রামে। সোমবার দুপুরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দারা হতবাক এই দৃশ্য দেখে।
অভিযোগকারী মহিলার দাবি, তাঁর স্বামী দেবাশীষ রায় (Debashish Roy), যিনি পেশায় একটি স্কুলের অস্থায়ী শিক্ষক (Temporary Teacher), ২০২০ সাল থেকে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। প্রথমে বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকলেও, পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক (Forced Physical Relation) গড়ে তোলেন দেবাশীষ।
তাঁর অভিযোগ, পরিবার বিয়েতে রাজি ছিল না। কিন্তু চাপের মুখে অবশেষে ২০ জুলাই সামাজিকভাবে বিয়ে হয় তাঁদের। শুরু হয় রেজিস্ট্রির প্রক্রিয়া। পরে জানতে পারেন, রেজিস্ট্রির সমস্ত নথি ছিল জাল (Fake Documents)। বিয়ের পরও দেবাশীষ তাঁকে বাবার বাড়িতে রেখেই পালিয়ে যান।
শেষমেশ উপায় না দেখে ওই মহিলা শ্বশুরবাড়ির দরজায় বসে পড়েন ধর্ণায় (Sit-in Protest)। বলেন, “আমি দেবাশীষের স্ত্রী, স্বীকৃতি চাই, অধিকার চাই।”
ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকাবাসীর ভিড় জমে যায় রায়পুরে। অনেকে পাশে দাঁড়ান, কেউ বা কৌতূহলী হয়ে দেখেন পুরো ঘটনা।
অন্যদিকে, দেবাশীষের বাবা গ্রীরেন্দ্রনাথ রায় জানিয়েছেন, এই বিয়ের কথা তিনি জানতেন না। তাঁর ছেলেকে ভয় দেখিয়ে জোর করে বিয়ে করানো হয়েছে (Forced Marriage) বলে পাল্টা দাবি করেছেন তিনি।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য ধীমান সেন। তিনি বলেন, “ঘটনার গুরুত্ব বুঝে পঞ্চায়েত স্তরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে।”
বর্তমানে মহিলার দাবি ও পরিবারের পাল্টা বক্তব্যে পরিস্থিতি ঘোলাটে। তবে প্রশ্ন উঠছে— বিয়ে, প্রতিশ্রুতি, রেজিস্ট্রেশন— কোনটা সত্যি আর কোনটা প্রতারণা?


