রাজনীতি
প্রবীণ বামপন্থী নেতা, প্রাবন্ধিক ও কবি আজিজুল হকের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ রাজনৈতিক মহল
প্রবীণ বামপন্থী নেতা, প্রাবন্ধিক ও কবি আজিজুল হকের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ রাজনৈতিক মহল। বহু দশক ধরে ভারতের নকশাল আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকা এই সংগ্রামী ব্যক্তিত্ব সোমবার দুপুর ২টা ২৮ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি নিজ বাড়িতে পড়ে গিয়ে তাঁর হাত ভেঙে যায়। এরপর তাঁকে সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউ-তে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর সোমবার তিনি না-ফেরার দেশে পাড়ি দেন।
আজিজুল হকের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ তিনি লেখেন, “প্রবীণ রাজনীতিক আজিজুল হকের প্রয়াণে আমি গভীর শোক জ্ঞাপন করছি। তিনি একজন লড়াকু, সংগ্রামী নেতা ছিলেন। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কখনও মাথা নত করেননি। শোকসন্তপ্ত পরিবার ও সহযোগীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।”
নকশাল আন্দোলনের ইতিহাসে আজিজুল হক ছিলেন এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। চারু মজুমদারের মৃত্যুর পর তিনি দ্বিতীয় কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রাজনৈতিক আদর্শের জন্য দীর্ঘ সময় জেলবন্দি ছিলেন। বন্দিদশায় লেখা তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘কারাগারের ১৮ বছর’ পাঠকমহলে ব্যাপক আলোচিত হয়। সেই গ্রন্থে বন্দি অবস্থায় তাঁর উপর হওয়া নিপীড়নের কাহিনি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন তিনি।
জেলে থাকা অবস্থায় দ্বিতীয়বার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে, বাম নেতৃত্বের উদ্যোগে তাঁকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। আজিজুল হক শুধু একজন রাজনীতিবিদই ছিলেন না, ছিলেন বামপন্থী দর্শনের এক অকুতোভয় ধারক-বাহক।