ভাইরাল খবর
ভোট বিপর্যয়ের পরেই হাতছাড়া দলীয় কার্যালয়? তৃণমূল ভবনে পাকাপাকি তালা পড়ার আশঙ্কা
নির্বাচন মিটতেই মন্টু সাহা ও তৃণমূলের সম্পর্কে ভাঙন। কলকাতার মেট্রোপলিটনের অস্থায়ী দলীয় কার্যালয় থেকে তড়িঘড়ি সরানো হচ্ছে আসবাবপত্র। নতুন ঠিকানার খোঁজে ঘাসফুল শিবির।
ডিজিটাল ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। এবার সেই হাওয়ার ধাক্কা লাগল খোদ ঘাসফুল শিবিরের প্রধান কার্যালয়ে। কলকাতার মেট্রোপলিটন (Metropolitan) এলাকায় অবস্থিত অস্থায়ী তৃণমূল ভবনটি খালি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকেই এই বহুতল ভবনের একতলা এবং দোতলা থেকে চেয়ার, টেবিলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র সরানোর কাজ শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রাতের অন্ধকারে ভবনের সামনে একাধিক পণ্যবাহী গাড়ি বা কার্গো ভেহিকল (Cargo Vehicles) দাঁড়িয়ে ছিল এবং ভোর হতেই সেগুলি মালামাল নিয়ে রওনা দেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে।
মেট্রোপলিটনের এই পাঁচতলা বাড়িটির আসল মালিক মনোতোষ সাহা, যিনি রাজনৈতিক বৃত্তে ‘মন্টু সাহা’ নামে অত্যন্ত পরিচিত। মন্টু সাহার মালিকানাধীন ‘মডার্ন ডেকরেটিং’ (Modern Decorating) সংস্থাটি এতদিন পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত বড় বড় জনসভা ও কর্মসূচিতে (Programs) মঞ্চ বাঁধার একচেটিয়া বরাত পেত। এমনকি প্রতি বছর ২১ জুলাইয়ের মেগা মঞ্চটিও তৈরি করত এই সংস্থাই। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পরেই রাতারাতি বদলে যায় সম্পর্কের সমীকরণ।
মন্টু সাহা দাবি করেন, চুক্তি ভঙ্গ করে তৃণমূল তাঁর বাড়িটি আটকে রেখেছে এবং অবিলম্বে তা খালি করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। বিষয়টি গড়ায় প্রগতি ময়দান থানা পর্যন্ত। পাল্টা আইনি লড়াইয়ে নামেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও কুণাল ঘোষ। তাঁরা ভাড়া দেওয়ার রসিদ বা রেন্ট রিসিট (Rent Receipts) থানায় জমা দিয়ে দাবি করেন যে, ২০২৭ সাল পর্যন্ত এই ভবনের লিজ বা চুক্তি (Agreement) রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত আইনি টানাপড়েনের মাঝেই বাড়িটি ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল।
২০২১ সালের নির্বাচনের পর উত্তর পঞ্চান্নগ্রামে ইএম বাইপাসের ধারের মূল তৃণমূল ভবনটি ভেঙে নতুন করে তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। সেই সময় থেকেই এই মেট্রোপলিটনের বাড়িটিকে অস্থায়ী কার্যালয় (Temporary Office) হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। এখনও মূল ভবনের নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায়, এই কার্যালয় বন্ধ হয়ে গেলে তৃণমূলকে নতুন কোনো অস্থায়ী ঠিকানার সন্ধান করতে হবে।
শুধু কলকাতাতেই নয়, দিল্লিতেও সম্প্রতি কার্যালয় হাতছাড়া হয়েছে জোড়াফুলের। লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিকের বাংলোর একটি অংশকে দিল্লির দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। কিন্তু দলের অন্দরে সমীকরণের রদবদল ঘটায় সেই কার্যালয়টিও সরিয়ে রাজ্যসভার সাংসদ (MP) নাদিমুল হকের বাংলোর একটি অংশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে কলকাতা থেকে দিল্লি— দলীয় কার্যালয় নিয়ে চরম বিড়ম্বনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল।
