বিশ্বের খবর
গাজায় সম্পূর্ণ অস্ত্রত্যাগের ঘোষণা করল হামাস! মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি চুক্তির ঐতিহাসিক ঘোষণা ট্রাম্পের
ডিজিটাল ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যে (Middle East) দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসানের লক্ষ্যে বড় অগ্রগতির দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তিনি জানান, হামাস (Hamas) এবং গাজার (Gaza) অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণে (Disarmament) সম্মত হয়েছে। একইসঙ্গে ধাপে ধাপে গাজা থেকে ইজরায়েলি সেনা (Israeli Forces) প্রত্যাহারের (Withdrawal) পথও তৈরি হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল (Truth Social)-এ ট্রাম্প লেখেন, বোর্ড অফ পিস (Board of Peace)-এর মধ্যস্থতায় এই ঐতিহাসিক সমঝোতা হয়েছে। তাঁর মতে, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি (Peace) ও নিরাপত্তা (Security) প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আলোচনায় ভূমিকা রাখার জন্য মিশর (Egypt), কাতার (Qatar) এবং তুরস্ককে (Turkey) ধন্যবাদও জানান তিনি।
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র সংগঠন ধাপে ধাপে তাদের সব ধরনের অস্ত্র (Weapons) জমা দেবে। এরপর গাজা থেকে পর্যায়ক্রমে সেনা সরাবে ইজরায়েল। একইসঙ্গে নতুন একটি ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনী (Palestinian Police Force) গঠন করে আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে গাজার প্রশাসন একটি টেকনোক্র্যাটিক (Technocratic) ফিলিস্তিনি সরকারের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তবে এই ঘোষণার পরও ইজরায়েল সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। অন্যদিকে হামাসের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অস্ত্র সমর্পণের বিষয়ে নীতিগতভাবে তারা সম্মত হয়েছে। তবে চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন নির্ভর করবে ইজরায়েলও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সেনা প্রত্যাহার করছে কি না, তার ওপর।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর গাজায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। চলমান যুদ্ধবিরতির (Ceasefire) মধ্যেই এই সমঝোতার দাবি সামনে এল। তবে কবে থেকে চুক্তির শর্ত কার্যকর হবে এবং বাস্তবে তা কতটা সফল হবে, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে আন্তর্জাতিক মহল এখন নজর রাখছে এই সম্ভাব্য শান্তি প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপের দিকে।
