রাজ্যের খবর
যন্তর মন্তরে পুলিশ সেজে নাশকতার ছক! হামিমকে নিয়ে বিস্ফোরক দাবি এসটিএফের
ডিজিটাল ডেস্কঃ পূর্ব বর্ধমান থেকে গ্রেফতার হওয়া জইশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammed) জঙ্গি সন্দেহভাজন হামিম মণ্ডলকে (Hamim Mondal) ঘিরে তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এর আইজি গৌরব শর্মা দাবি করেন, শুধু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীই নন, দিল্লির যন্তর মন্তর (Jantar Mantar)-এ পুলিশ সেজে নাশকতা (Sabotage) চালানোর পরিকল্পনাও ছিল হামিম ও তার সহযোগীদের।
এসটিএফের দাবি, গত চার বছর ধরে বাংলায় সক্রিয় ছিল হামিম। সম্প্রতি হাওড়ার এক মন্ত্রীর ছেলেকে অপহরণের হুমকির তদন্ত করতে গিয়েই তার সন্ধান মেলে। তদন্তে জানা যায়, ইনস্টাগ্রাম (Instagram), টেলিগ্রাম (Telegram)-সহ এনক্রিপ্টেড (Encrypted) অ্যাপের মাধ্যমে পাকিস্তানের (Pakistan) জঙ্গি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত সে। তদন্তকারীদের দাবি, বিদেশি SIM Card ব্যবহার করে পুলিশের নজর এড়ানোর চেষ্টা করা হত।
পুলিশ সূত্রে দাবি, হামিমের মোবাইল ও ডিজিটাল ডিভাইস থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান থেকে আর্থিক সাহায্যও এসেছে। তদন্তকারীদের অনুমান, সীমান্তের ওপার থেকে তৈরি হওয়া নাশকতার পরিকল্পনা ভারতে বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিল হামিম ও তার নেটওয়ার্ক।
এসটিএফ আরও জানিয়েছে, পুলিশের পোশাক (Police Uniform) পরে যন্তর মন্তরের ভিড়ে মিশে নাশকতা চালানোর পরিকল্পনার কথাও তদন্তে উঠে এসেছে। যদিও ওই পরিকল্পনায় হামিম নিজে উপস্থিত থাকার কথা ছিল, নাকি অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তা এখনও তদন্তাধীন।
এদিকে হামিমের ঘনিষ্ঠ পরিচিত অর্পিতা সরকারকেও গ্রেফতার করেছে এসটিএফ। তদন্তে উঠে এসেছে, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের Honey Trap-এ ফেলার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনাও ছিল এই চক্রের। হাওড়ার এক মন্ত্রী ও তাঁর পরিবারকেও লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের দাবি, এই জঙ্গি মডিউলের সঙ্গে একাধিক বিদেশি হ্যান্ডলারের যোগাযোগ ছিল। হামিমের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া চ্যাট, নথি ও ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করে গোটা চক্রের কার্যকলাপের উৎস, অর্থের লেনদেন এবং সম্ভাব্য নাশকতার পরিকল্পনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এসটিএফের এই সমস্ত তথ্য এখনও তদন্তাধীন এবং আদালতে বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই সাপেক্ষ।
