ওয়াশিংটনের দাবি, রাশিয়া থেকে তেল কিনে ভারত পরোক্ষে ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থ জোগাচ্ছে। যদিও নয়াদিল্লি (New Delhi) পাল্টা প্রশ্ন তুলেছে— একই কারণে রাশিয়ার অন্য ক্রেতাদের বিরুদ্ধে কেন পদক্ষেপ করা হচ্ছে না? শুধুমাত্র ভারতকে নিশানা করাই পক্ষপাতদুষ্ট মনোভাবের পরিচায়ক বলে অভিযোগ ভারতের।
এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (Prime Minister’s Office) উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে শুল্কের প্রভাব মোকাবিলায় ভারতের কৌশল নির্ধারণ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তার আগেই গুজরাটের (Gujarat) সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—“আমাদের উপর চাপ বাড়তে পারে, কিন্তু আমরা মাথা নোয়াব না।” দেশীয় পণ্যের প্রসারে তিনি ব্যবসায়ীদের স্বদেশী সামগ্রী বিক্রির আহ্বান জানান এবং দোকানে ‘মেরে ইয়াহাঁ স্বদেশি বিকতা হ্যায়’ (Here, Swadeshi is Sold) লেখা বোর্ড লাগানোর পরামর্শ দেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ট্রাম্প শুধু ভারতের উপরই নয়, চীন (China)-সহ আরও কয়েকটি দেশের উপর আমেরিকান প্রযুক্তি ও চিপ পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক বাড়ানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য— “আমেরিকা আর বিশ্বের পিগি ব্যাংক নয়। আমাদের বাজারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন, নইলে ফল ভোগ করুন।” এছাড়া ডিজিটাল কর সংক্রান্ত আইন না বদলালে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির রপ্তানির উপরও বাড়তি শুল্ক চাপানো হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
অর্থাৎ, নির্ধারিত সময়সীমা ঘনিয়ে আসতেই স্পষ্ট হচ্ছে— মার্কিন প্রশাসনের সিদ্ধান্তে ভারতের উপর শুল্কের ভার দ্বিগুণ হতে চলেছে। এরই মাঝে কেন্দ্রীয় সরকারের সাফ বার্তা, চাপ যতই আসুক, নিজেদের নীতিতে অনড় থাকবে নয়াদিল্লি।