বাংলাদেশ
বাংলাদেশে ফের সংখ্যালঘু নির্যাতন, হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও গায়ে আগুন দিয়ে খুনের চেষ্টা
ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের (Bangladesh Hindu attack) অভিযোগ ফের সামনে এল বর্ষবরণের রাতে। বুধবার গভীর রাতে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে মারধর করে গায়ে আগুন লাগিয়ে খুনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকার এক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনায় দেশজুড়ে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা (minority security) নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আক্রান্ত ব্যক্তির নাম খোকন দাস (Bangladesh’s Khokan Das), বয়স প্রায় ৫০। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে তাঁকে ঘিরে ধরে একদল দুষ্কৃতী। প্রথমে ধারাল অস্ত্র (sharp weapon) দিয়ে আঘাত করা হয়, পরে পেট্রোল ঢেলে গায়ে আগুন ধরানো হয়। প্রাণ বাঁচাতে পাশের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন খোকন। স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তাঁর অবস্থা সংকটজনক (critical condition)।
খোকনের স্ত্রী সীমা সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাঁদের কারও সঙ্গে কোনও বিরোধ ছিল না। কেন তাঁর স্বামীকে টার্গেট করা হল, তা বুঝতে পারছেন না। তিনি বলেন, “মাথা ও মুখে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।” ইন্ডিয়া টুডে (India Today)–র রিপোর্ট অনুযায়ী, পুকুরে ঝাঁপ দিয়েই উত্তেজিত জনতার হাত থেকে রক্ষা পান খোকন। সীমার দাবি, অসুস্থ অবস্থাতেই খোকন দু’জন অভিযুক্তকে শনাক্ত (identified) করেছেন। পুলিশ গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে বলে জানানো হয়েছে।
ডিসেম্বরে এ নিয়ে চতুর্থবার সংখ্যালঘুদের উপর হামলার অভিযোগ উঠল। এর আগে ময়মনসিংহে দীপু দাস (Deepu Das)–এর হত্যাকাণ্ড, অমৃত মণ্ডল ও বজেন্দ্র দাসকে খুনের অভিযোগ ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। অন্তর্বর্তী ইউনুস সরকারের (Yunus interim government) অধীনে সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ বেড়েছে বলেও অভিযোগ উঠছে।
ভারত সরকার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ‘অবিরাম বৈরিতা’ (persistent hostility) লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। ঢাকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও এই ঘটনায় কূটনৈতিক মহলে অস্বস্তি বেড়েছে। খোকন দাসের চোখে অপারেশন হয়েছে, তাঁকে ইনটেনসিভ কেয়ার (ICU)–এ রাখা হবে। স্থানীয়রা আতঙ্কে রয়েছেন, সকলের নজর এখন প্রশাসনের পদক্ষেপের দিকে।


