ভাইরাল খবর
৩৪ বছর বামফ্রন্টের শেষ মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেবের মৃত্যুদিনে মমতার শ্রদ্ধাঞ্জলি
ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট শাসনের দ্বিতীয় এবং শেষ মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের (Buddhadeb Bhattacharjee) প্রয়াণের একবছর পূর্ণ হলো শুক্রবার। ২০০০ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা ১১ বছর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন।
পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রয়াণ দিবসে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) August 8, 2025
১৯৪৪ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করা বুদ্ধদেবের শিকড় মূলত বাংলাদেশের মাটিতে। তিনি ছিলেন প্রেসিডেন্সি কলেজের ছাত্র ও কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের আত্মীয় হলেও নিজস্ব চিন্তার ধারায় দাঁড়িয়ে রাজনীতিতে নিজের পরিচিতি তৈরি করেছিলেন। ১৯৬৬ সালে সিপিএম-এ যোগ দিয়ে ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে যুব আন্দোলন, তথ্য-সংস্কৃতি দফতর, স্বরাষ্ট্র দফতর, অবশেষে মুখ্যমন্ত্রী পদে ওঠা— রাজনীতির প্রতিটি ধাপে ছিলেন অনাড়ম্বরে।
আরও পড়ুনঃ কলকাতায় ‘বাংলাদেশি’ তকমায় ২৪ পরিবার উচ্ছেদ, পুনর্বাসনের দাবিতে উত্তাল এলাকাবাসী
‘কৃষি আমাদের ভিত্তি, শিল্প আমাদের ভবিষ্যৎ’ এই মন্ত্রেই শিল্পায়নের জন্য কাজ করেছিলেন বুদ্ধদেব। তবে সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের জমি অধিগ্রহণ নিয়ে তীব্র বিতর্ক এবং প্রতিবাদ রাজনীতিতে এক বড় মোড় এনেছিল। ২০১১ সালের নির্বাচন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বামফ্রন্টের দীর্ঘ ৩৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটায়।
মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময়ও বুদ্ধদেব পাম অ্যাভিনিউয়ের ছোট সরকারি ফ্ল্যাটেই থেকেছেন। দলের ভুলের দায় নিজের কাঁধে নেওয়ার সাহস তিনি দেখিয়েছেন এবং নন্দীগ্রামে পুলিশের গুলিচালনার দায়ও প্রকাশ্যে নিয়েছিলেন।
লেখক হিসেবে তাঁর নাটক, প্রবন্ধ এবং বিদেশি সাহিত্যের অনুবাদে ছিল গভীরতা। চিনা নীতির সমালোচনায় তিনি ছিলেন অকপট। ২০২২ সালে পদ্মভূষণ সম্মান প্রস্তাব পান, কিন্তু ব্যক্তিগত বিশ্বাসে সম্মান গ্রহণ করেননি। শেষ জীবন কষ্টকর হলেও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ম্লান হয়নি।
