উত্তরবঙ্গ
ফিল্মি কায়দায় ড্রোনে নজরদারি! ইসলামপুরে পুলিশি অভিযানে উদ্ধার ১৭ নাবালিকা
ডিজিটাল ডেস্কঃ উত্তর দিনাজপুরের (North Dinajpur) ইসলামপুরের (Islampur) চম্পাবাগ (Champabag) এলাকার নিষিদ্ধপল্লিতে মানবপাচার (Human Trafficking) চক্রের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। ড্রোন (Drone) প্রযুক্তির সাহায্যে নজরদারি চালিয়ে বিশেষ অভিযানে ১৭ জন নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়েছে। একইসঙ্গে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার (Arrest) করেছে ইসলামপুর পুলিশ জেলা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে গোপন সূত্রে খবর আসে যে বিহার (Bihar), অসম (Assam) এবং গুজরাট (Gujarat) থেকে আনা একাধিক নাবালিকাকে চম্পাবাগ এলাকায় লুকিয়ে রাখা হয়েছে। খবর পেয়েই পুলিশ সুপার (Superintendent of Police) রাকেশ সিং (Rakesh Singh)-এর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান শুরু হয়। প্রথমবারের মতো পুরো এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হয়।
পুলিশের দাবি, ড্রোনের উপস্থিতি টের পেয়েই কয়েকজন অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করে। তবে আগে থেকেই এলাকায় মোতায়েন থাকা পুলিশ বাহিনী চারজনকে আটক করে। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের নাম নুরজাহান বেগম, তসলিমা খাতুন, মহম্মদ সেলিম এবং মহম্মদ নিজাম। চারজনই ইসলামপুরের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযান চলাকালীন চম্পাবাগ এলাকার বিভিন্ন ঘর থেকে একে একে ১৭ জন নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া কিশোরীদের মধ্যে কয়েকজন বিহারের কিশনগঞ্জ (Kishanganj) ও আরারিয়া (Araria) জেলার বাসিন্দা। এছাড়াও অসমের তিনসুকিয়া (Tinsukia) জেলা এবং গুজরাটেরও কয়েকজন নাবালিকা রয়েছেন।
পুলিশ সুপার রাকেশ সিং জানান, এটি ইসলামপুর পুলিশ জেলার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। প্রাথমিক তদন্তে একটি বড় আন্তঃরাজ্য মানবপাচার চক্রের (Interstate Trafficking Network) যোগসূত্র মিলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ধৃতদের ইসলামপুর মহকুমা আদালতে (Sub-Divisional Court) পেশ করে পুলিশি হেফাজতের (Police Custody) আবেদন জানানো হবে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মূল পাচারচক্রের মাথাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। উদ্ধার হওয়া নাবালিকাদের কাউন্সেলিং (Counselling), চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত আরও সদস্যদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ রুখতে সীমান্তবর্তী (Border) ও সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
