ফের ব্যর্থ হল জাপানের বেসরকারি চন্দ্রাভিযান, অন্ধকারেই হারাল Resilience
Connect with us

বিজ্ঞান

ফের ব্যর্থ হল জাপানের বেসরকারি চন্দ্রাভিযান, অন্ধকারেই হারাল Resilience

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ চাঁদের বুকে আরও এক মহাকাব্যিক অভিযানের স্বপ্নভঙ্গ! দীর্ঘ প্রস্তুতি, প্রযুক্তির নিখুঁত সমন্বয় এবং ইতিহাস গড়ার আশায় তৈরি হয়েছিল জাপানের Hakuto-R Mission 2-এর চন্দ্রযান Resilience (রেজিলিয়েন্স)। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। চাঁদের উত্তর মেরুতে অবতরণের ঠিক আগের মুহূর্তেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভেঙে পড়ল এই ল্যান্ডার। ispace সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার কারণেই মিশনের এই পরিণতি।

এই মিশনে লক্ষ্য ছিল চাঁদের Mare Frigoris নামক সমতল অঞ্চলে নিরাপদ অবতরণ। সেইসঙ্গে ছিল Tenacious (টেনেসিয়াস) নামের চার চাকার রোভার ও এক অনন্য ‘Moonhouse (মুনহাউস)’— একটি ছোট লাল রঙের সুইডিশ ধাঁচের ঘর, যা চাঁদের বুকে মানবজাতির প্রতীক হিসেবে স্থাপন করার কথা ছিল। ল্যান্ডারটির উচ্চতা ছিল ২.৩ মিটার, এবং ১৪ দিন ধরে উত্তর মেরুতে গবেষণার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by Embassy of Sweden in Qatar (@swedeninqatar)

Advertisement
ads

ispace (আইস্পেস) নামের এই জাপানি বেসরকারি সংস্থাটি এর আগেও ২০২২ সালে প্রথমবার চাঁদে ল্যান্ডিংয়ের চেষ্টা করেছিল, তবে তখনও ব্যর্থতা ছিল সঙ্গী। এবারও একই দৃশ্যপট—চাঁদের বুকে নামার মুহূর্তেই গতি ছিল ঘণ্টায় ১৮৭ কিলোমিটার এবং মাত্র ২২৩ মিটার দূরত্বে থেকেও ল্যান্ডারটি ব্যর্থ হয়ে আছড়ে পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, গতিবেগ নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারায় ভেঙে পড়েছে ল্যান্ডারটি।

এই মিশনে জড়িত ছিল লাক্সেমবার্গের একটি অংশীদার সংস্থাও, যারা রোভারটি তৈরি করেছিল। চন্দ্রযানে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির একটি বড় অংশই তৈরি করেছিল জাপানি সংস্থাগুলি ও তাইওয়ানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়। মিশনের মোট খরচ ধরা হয়েছিল প্রায় ১৬ মিলিয়ন ডলার।

প্রকল্পটি শুধু বৈজ্ঞানিক নয়, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। NASA (নাসা)-র সঙ্গে চুক্তি করে চাঁদের নমুনা সংগ্রহ এবং ভবিষ্যতে তা পৃথিবীতে আনার পরিকল্পনা করেছিল ispace।

Advertisement
ads

বিশেষজ্ঞদের মতে, চাঁদের দক্ষিণ মেরুর ন্যায় উত্তর মেরুও অত্যন্ত দুর্গম। Mare Frigoris অঞ্চলও এক সময় লাভায় পূর্ণ ছিল, বর্তমানে সেখানে পাথরের চাঁই ছাড়া বিশেষ কিছু নেই। এমন অবস্থায় সেখানে সফল অবতরণ নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক কীর্তি হতে পারত।

এখনো পর্যন্ত ispace-এর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না আসলেও সংস্থাটি জানিয়েছে, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তারা পরবর্তী তথ্য জানাবে। এর মধ্যেই আগামী দিনে Blue Origin ও Astrobotic Technologies-এর মতো সংস্থাগুলির চন্দ্রাভিযান সামনে রয়েছে।

যদিও Resilience (রেজিলিয়েন্স) ইতিহাসে জায়গা করে নিতে পারল না, তবে এই ব্যর্থতা ভবিষ্যতের পথ নির্মাণে নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে থাকবে।

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement