হামলা
শিব স্তোত্র পাঠে শুরু, অতঃপর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর ভয়াল চিত্র প্রকাশ করল ভারত
ডিজিটাল ডেস্ক: ভগবান শিবের স্তোত্র পাঠ দিয়ে শুরু হল ভারতের সামরিক বাহিনীর এক ঐতিহাসিক সাংবাদিক বৈঠক। সেনার ডিজিএমও লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাই (Lt Gen Rajeev Ghai) এই আচার সম্পন্ন করেই শুরু করলেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সামরিক প্রতিক্রিয়ার বিস্তারিত বিবরণ।
তিনি জানান, ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor)-এর অধীনে গত ৭ থেকে ১০ মে পর্যন্ত পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) মোট ৯টি জঙ্গিঘাঁটিতে সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হয়। এই অভিযানে প্রাণ হারায় ১০০-রও বেশি জঙ্গি। নিহতদের তালিকায় রয়েছেন কান্দাহার অপহরণের মূল চক্রী ইউসুফ আজহার (Yusuf Azhar), পুলওয়ামা হামলার মাথা মুদাসির আহমেদ (Mudassir Ahmed) এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী আব্দুল মালিক রউফ (Abdul Malik Rauf)।
ডিজিএমও ঘাই অভিযোগ করেন, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রণ রেখা (LoC) লঙ্ঘন করে ভারতের গ্রামীণ এলাকা এবং ধর্মীয় স্থানে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর চেষ্টা করেছে। গুরুদ্বার, স্কুল এবং জনবহুল অঞ্চলে আঘাত করার চেষ্টা ব্যর্থ হয় ভারতীয় সেনার সতর্কতায়। এই পরিস্থিতিতে ভারত তিন বাহিনীকে একত্রিত করে পরিকল্পিত এবং প্রতিরোধমূলক হামলা চালায়।
আরও পড়ুনঃ কাশ্মীর ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, ট্রাম্পের প্রস্তাব এক কথায় নাকচ করল ভারত
বায়ুসেনার এয়ার মার্শাল একে ভারতী (Air Marshal A.K. Bharti) জানান, পাকিস্তানের ভাওয়ালপুরে (Bahawalpur) একাধিক জঙ্গিঘাঁটি পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি সাংবাদিক বৈঠকে অভিযানের ভিডিও ফুটেজও তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, পাকিস্তানের সামরিক ঘাঁটি যেমন চাকলালা (Chaklala), রফিকি (Rafiqui) সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ভারত টার্গেটেড স্ট্রাইক করে। তাঁর কথায়, “আমরা চাইলে সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে পারতাম, কিন্তু আমরা সংযত এবং দায়িত্বশীল আচরণ করেছি।”
এই অভিযানে পাকিস্তানের প্রায় ৩৫-৪০ সেনার মৃত্যুর কথা জানিয়েছেন ডিজিএমও ঘাই। তাঁর বক্তব্য, এই সামরিক পদক্ষেপ ছিল সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক এবং ভারতের নিরাপত্তা রক্ষার প্রয়াস। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ভারতের আকাশসীমায় ড্রোন ও যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে হামলার চেষ্টা হয়েছিল বলেও তিনি জানান। বেশির ভাগ আক্রমণ ব্যর্থ হয়, সীমিত কিছু ক্ষয়ক্ষতি হলেও বড়সড় বিপর্যয় এড়ানো গিয়েছে। সংঘর্ষের আবহে ভারতীয় বাহিনীর পাঁচ সদস্য শহিদ হয়েছেন বলেও জানানো হয় সাংবাদিক বৈঠকে।
এছাড়াও, ঘাই জানান, ১০ মে বিকেল ৩:৩৫ নাগাদ পাকিস্তানের ডিজিএমও-র (Pak DGMO) সঙ্গে হটলাইন যোগাযোগ হয়। আলোচনার ভিত্তিতে উভয় পক্ষ ১০ মে সন্ধ্যা ৫টা থেকে সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয়। কিন্তু, সেই চুক্তি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভঙ্গ করে পাকিস্তান। শনিবার রাত থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত একাধিকবার ভারতের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে ড্রোন ও বিমান হামলার চেষ্টা চালানো হয়। এরপর রবিবার সকালে হটলাইনের মাধ্যমে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে জানান ডিজিএমও।
তিনি স্পষ্ট জানান, সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি হলে ভারতীয় সেনার মাটিতে থাকা কমান্ডারদের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার জন্য।
সাংবাদিক বৈঠকে তিন বাহিনীর পক্ষ থেকেই একযোগে জানানো হয়, পাকিস্তানি নাগরিক বা সেনার সঙ্গে ভারতের কোনও ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই। ভারত লড়ছে একমাত্র সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে। তবে আগ্রাসনের জবাব আগ্রাসনেই দেওয়া হবে—এই বার্তাই পৌঁছে দেওয়া হয়েছে ইসলামাবাদে।
