বিশ্বের খবর
ইরানে ইজরায়েলের ভয়াবহ হামলা, নিহত শীর্ষ সেনা ও পরমাণু বিজ্ঞানীরা
ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের আগুন জ্বলে উঠল। ইজরায়েলের (Israel) সেনা ইরানের (Iran) উপর চালাল ভয়াবহ আক্রমণ। ইরানের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে পরপর আছড়ে পড়েছে প্রায় ২০০টি মিসাইল। ইরানের শীর্ষ সেনা আধিকারিকদের মৃত্যু হয়েছে এই হামলায়। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের চিফ অফ স্টাফ মহম্মদ বাঘেরি (Mohammad Bagheri), রেভোলিউশনারি গার্ডসের (Revolutionary Guards) কমান্ডার হোসেন সালামি (Hossein Salami) এবং ইরানের এমার্জেন্সি কমান্ডের প্রধান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) কড়া হুঁশিয়ারির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইজরায়েলের বড়সড় প্রতিরোধ। পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে ওঠায় ইজরায়েল জুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাতজ (Israel Katz) স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের পালটা আঘাতের জন্য তাঁদের সেনা পুরোপুরি প্রস্তুত। শুক্রবার ভোরে ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ (Operation Rising Lion) নামে এই সামরিক অভিযান শুরু করে তেল আভিভ। ইজরায়েলের দাবি, ইরানের সামরিক ঘাঁটি এবং পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার ছিল এই হামলার মূল লক্ষ্য। ইজরায়েলি সেনা সূত্রে খবর, এই হামলা ‘সতর্কতামূলক পদক্ষেপ’।
আরও পড়ুনঃ আবার বিপাকে এয়ার ইন্ডিয়া!মাঝ আকাশ থেকে ফিরল মুম্বই-লন্ডনগামী বিমান
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu) জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরান (Tehran) থেকে পরমাণু হামলার আশঙ্কা রয়েছে। যতক্ষণ না ইরানের পারমাণবিক শক্তি পুরোপুরি ধ্বংস হচ্ছে, ততক্ষণ এই অভিযান চলবে বলেই জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের দাবি, ইজরায়েলি হামলায় মৃত্যু হয়েছে রেভোলিউশনারি গার্ডসের প্রধান হোসেন সালামির (Hossein Salami)। পাশাপাশি নিহত হয়েছেন ইরানের দুই বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ফেরেদুন আব্বাসি-দাভানি (Fereydoon Abbasi-Davani) এবং মহম্মদ মেহদি তেহরানচি (Mohammad Mehdi Tehranchi)। ইরান অভিযোগ করেছে, তেহরানের বেশ কিছু জনবসতিতেও হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল, প্রচুর সাধারণ মানুষের হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে। পালটা প্রতিশোধের হুমকিও দিয়েছে তেহরান।
এই হামলায় আমেরিকার কোনও প্রত্যক্ষ ভূমিকা নেই বলেই দাবি করেছেন মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও (Marco Rubio)। তবে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। ইজরায়েলে ইতিমধ্যেই জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে তেল আভিভ বিমানবন্দর। পাশাপাশি ইরান সম্পূর্ণভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ করেছে। ইরাকের আকাশপথও আপাতত বন্ধ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আকাশসীমা বন্ধের ফলে আন্তর্জাতিক উড়ান পরিষেবায় বড় প্রভাব পড়তে চলেছে। বিশেষ করে ভারত থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উপর দিয়ে যাওয়া একাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট হয় বাতিল হতে পারে, নয়তো দীর্ঘ পথ ঘুরে অন্য রুটে পাঠানো হতে পারে। পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।
