পানামায় আয়োজিত ভারতীয়দের সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে থারুর বলেন, “পহেলগাঁওয়ের সেই নারীরা কেঁদে কেঁদে বলেছিলেন, আমাকেও মেরে দাও। কিন্তু জঙ্গিরা বলেছিল—তোমরা বেঁচে থাকো, হামলার কথা সবাইকে জানাও। ভারত সেই কান্না শুনেছে। তাই যার কপাল থেকে সিঁদুর মুছে গিয়েছিল, তাদের জন্যই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি—একই লালেরই রক্ত ঝরবে জঙ্গিদের শরীরে।” তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন কেন এই অভিযান প্রয়োজনীয় ছিল। জঙ্গিরা যে নারীদের সিঁদুর মুছে দিয়েছিল, তাদের বিবাহিত জীবনের অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছিল। এবার তাদের রক্তেই সেই অন্যায়ের মূল্য চোকাতে হবে।”
আরও পড়ুনঃ ভালবাসার টানে রাজত্ব ত্যাগ, এবার মাতৃত্বের আনন্দে উদ্ভাসিত প্রাক্তন রাজকুমারী
শশী থারুরের বক্তব্যে উঠে আসে অতীতের পরিপ্রেক্ষিতও। তিনি বলেন, “উরি হামলার পর প্রথমবার ভারত নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করে প্রত্যাঘাত করেছিল। কার্গিল যুদ্ধের সময়েও এমন সিদ্ধান্ত হয়নি। এখন পরিস্থিতি বদলেছে। বার্তা দেওয়া হয়েছে—যে হামলা করবে, তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে না।”
তবে থারুরের এই বক্তব্য ঘিরেই বিতর্ক শুরু হয়েছে কংগ্রেসের অন্দরে। দলেরই নেতা উদিত রাজ (Udit Raj) মন্তব্য করেছেন, “উনি তো বিজেপির মুখপাত্র হয়ে গিয়েছেন। যতটা প্রশংসা উনি প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রের করেছেন, তার চেয়ে কম বলেছেন বিজেপি নেতারাও।”
প্রসঙ্গত, অপারেশন সিঁদুরের পর ভারতজুড়ে রাজনৈতিক ঐক্যের ছবি দেখা গিয়েছিল। কংগ্রেস-সহ একাধিক বিরোধী দল কেন্দ্রের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিল। তা সত্ত্বেও দলের এক গুরুত্বপূর্ণ সাংসদের বিদেশের মাটিতে সরকারপ্রশংসায় মুখর হওয়াকে কেন্দ্র করেই প্রশ্ন উঠছে—কেন এবার কটাক্ষের শিকার হতে হচ্ছে তাঁকে দলের অন্দরেই?
চাপা পড়ে যাওয়া সেই প্রশ্নই এখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে—জাতীয় স্বার্থে একজোট হওয়া কি শুধুই লোকদেখানো ছিল?