দেশের খবর
রক্তক্ষয়ী লড়াই পেরিয়ে অর্জিত স্বাধীনতার ৭৯তম বর্ষে গর্বিত ভারত
ডিজিটাল ডেস্ক: আজ ১৫ই আগস্ট। স্বাধীন ভারতের ৭৯তম স্বাধীনতা দিবস। ১৯৪৭ সালের এই দিনে ঔপনিবেশিক শাসনের শৃঙ্খল ভেঙে উঠে দাঁড়িয়েছিল আমাদের ভারতবর্ষ। লালকেল্লায় জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী যখন পতাকা উত্তোলন করেন, তখন দেশের কোটি কোটি মানুষের মনে ভেসে ওঠে সেই দীর্ঘ সংগ্রামের স্মৃতি—যেখানে আত্মত্যাগ, রক্ত, অদম্য সাহস আর একতা মিলেমিশে গড়ে তুলেছিল স্বাধীনতার পথ।
ভারতের স্বাধীনতা কেবল একটি রাজনৈতিক সাফল্য ছিল না, এটি ছিল শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলা লড়াইয়ের ফল। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেই লড়াইয়ের অন্যতম প্রধান প্রেরণা। তিনি বিশ্বাস করতেন—”তুমি আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাকে স্বাধীনতা দেব”—এই আহ্বান শুধু একটি স্লোগান ছিল না, ছিল এক গভীর অঙ্গীকার। আজাদ হিন্দ ফৌজের নেতৃত্বে তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আন্দোলন চালান, যা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত নড়িয়ে দেয়।
নেতাজির পাশাপাশি মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু, ভগৎ সিং, খুদিরাম বসু, মাতঙ্গিনী হাজরা প্রমুখ স্বাধীনতা সংগ্রামী তাঁদের নিজস্ব পথে লড়াই করেছেন। কারও পথ ছিল অহিংস আন্দোলনের, কারও পথ ছিল সশস্ত্র বিপ্লবের। তবুও উদ্দেশ্য ছিল এক—শাসনমুক্ত স্বাধীন ভারত।
আরও পড়ুনঃঅভয়া হত্যার বিচার দাবিতে রাজপথে ফের আন্দোলন, রাজনৈতিক স্বার্থের প্রশ্ন উঠল
১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট রাত বারোটায় প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু সংসদ ভবনে তাঁর ঐতিহাসিক ‘ট্রিস্ট উইথ ডেসটিনি’ ভাষণে স্বাধীন ভারতের জন্ম ঘোষণা করেন। একই দিনে সারা দেশে আনন্দ, উল্লাস, কৃতজ্ঞতা আর আবেগে ভেসে গিয়েছিল মানুষ। তবে স্বাধীনতার সঙ্গে এসেছিল দেশভাগের বেদনাও—যা লাখো মানুষকে শরণার্থী হতে বাধ্য করেছিল।
আজ, স্বাধীনতার এই বিশেষ দিনে, দেশ জুড়ে চলছে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শোভাযাত্রা ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন। স্কুল-কলেজ, সরকারি দপ্তর থেকে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত সর্বত্র শোনা যাচ্ছে ‘জন গণ মন’ আর ‘বন্দে মাতরম’-এর সুর। নেতাজি, গান্ধীজি বা ভগৎ সিংয়ের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করছেন মানুষ, নতুন প্রজন্মকে জানানো হচ্ছে সেই রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ইতিহাস।
স্বাধীনতা দিবস কেবল উৎসব নয়, এটি এক অঙ্গীকার—যে দেশের জন্য আমাদের পূর্বসূরিরা জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই দেশকে আরও শক্তিশালী, সমৃদ্ধ এবং বৈষম্যমুক্ত করে গড়ে তোলা আমাদের দায়িত্ব। নেতাজির আত্মত্যাগ ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয়—স্বাধীনতা একবার অর্জন করলেই শেষ নয়, তাকে রক্ষা করাও সমান জরুরি।
৭৯ বছর আগে ছিনিয়ে আনা স্বাধীনতার গৌরব আজও প্রতিটি ভারতবাসীর হৃদয়ে অমলিন। নেতাজি ও অসংখ্য বীর শহীদের ত্যাগের বিনিময়ে যে পতাকা আজ গর্বভরে উড়ছে, তার রঙে মিশে আছে রক্ত, আশা আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব বর্তমান প্রজন্মের হাতেই।