ভোটের খবর
“CAA-তে আবেদন করলে ভোটার লিস্টে নাম উঠবেই”— বিতর্কিত পোস্টে বিজেপি বিধায়ক
ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলায় ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (Special Intensive Revision – SIR)। নির্বাচন কমিশন (Election Commission) ঘোষিত এই প্রক্রিয়া ঘিরে রাজ্যজুড়ে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক ও উদ্বেগের আবহ, বিশেষ করে মতুয়া (Matua) অধ্যুষিত এলাকায়। এরই মধ্যে বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন হরিণঘাটার (Haringhata) বিজেপি (BJP) বিধায়ক অসীম সরকার (Asim Sarkar)।
সমাজমাধ্যমে তাঁর একটি পোস্ট ঘিরে ছড়িয়েছে তীব্র বিতর্ক। পোস্টে অসীম সরকারের দাবি— “SIR-এ নাম কেটে দিলেও এইটুকু বলতে পারি, CAA (Citizenship Amendment Act)-তে আবেদন করলে নাগরিকত্ব (Citizenship) মিলবেই এবং ভোটার লিস্টে নাম উঠবে।”
এই বক্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়। যদিও পরবর্তীতে বিধায়ক অসীম সরকার স্পষ্ট করে বলেন— “ইলেকশন কমিশনের আইন অনুযায়ী (Election Rules) হিন্দু-মুসলমান বিভাজনের কোনও প্রশ্নই ওঠে না। যাঁদের নাম থাকার কথা, তাঁদের নাম থাকবে; যাঁদের বাদ পড়ার কথা, তাঁরা বাদ পড়বেন।”
তিনি আরও ব্যাখ্যা দেন, ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে জন্মগ্রহণ করা এবং ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় (Voter List) নাম থাকা নাগরিকদের ক্ষেত্রে কোনও জটিলতা নেই। আর ১৯৮৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২০০৪ সালের ২ ডিসেম্বরের মধ্যে জন্মগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় থাকা বাধ্যতামূলক।
অসীম সরকারের বক্তব্য, এই আইন (Law) হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সবার জন্য প্রযোজ্য। তবে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, সিএএ (CAA)-এর ৬(বি) ধারায় বলা আছে— কেউ যদি এই আইনের আওতায় ফর্ম পূরণ করেন, তাহলে রিসিট (Receipt) পাওয়ার আগে পর্যন্ত তাঁর নাগরিক অধিকার (Civil Rights) অক্ষুণ্ণ থাকবে। অর্থাৎ উদ্বাস্তুদের (Refugees) নাগরিক সুবিধা কেড়ে নেওয়া যাবে না।
তিনি স্পষ্ট করেন, তাঁর বক্তব্য কেবলমাত্র উদ্বাস্তু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে, যারা ভারত ভাগের পর শরণার্থী হিসেবে এসেছেন এবং ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতে অবস্থান করছেন।
তবে এই মন্তব্য ঘিরে মতুয়া মহলে (Matua Community) সৃষ্টি হয়েছে ক্ষোভ। অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের (All India Matua Mahasangha) গোসাই পরিষদের সম্পাদক রঞ্জিত বাইন (Ranjit Bain) বলেন, “যার নাম SIR-এ বাদ পড়বে, সে আবার CAA-তে নাগরিকত্ব পাবে? বিধায়ক নাকি ভোটার তালিকা পুনরায় সংশোধন করবেন? এ সবই ভাঁওতাবাজি।”
অন্যদিকে রঞ্জিত ঘোষের (Ranjit Ghosh) বক্তব্য— “একজন জনপ্রতিনিধি (Public Representative) হিসেবে তিনি কীভাবে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে এমন মন্তব্য করতে পারেন? বিজেপি মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি (Confusion) ছড়ানোর রাজনীতি করছে।”
