ভারত পাকিস্তানের যুদ্ধ হলে সেভেন সিস্টার দখলে নামবে বাংলাদেশ!
Connect with us

হামলা

ভারত পাকিস্তানের যুদ্ধ হলে সেভেন সিস্টার দখলে নামবে বাংলাদেশ!

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ ভারত-পাকিস্তান সম্ভাব্য সংঘাতের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশকে উত্তর-পূর্ব ভারতের সাত রাজ্য (SEVEN SISTERS) দখল করার পরামর্শ দিলেন সে দেশের এক অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্তা। এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্কের ঝড়।

সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে বাংলাদেশের অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এএলএম ফজলুর রহমান লেখেন, “যদি ভারত পাকিস্তানে হামলা করে, তবে বাংলাদেশের উচিত হবে উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্য দখল করে নেওয়া। সেই লক্ষ্যে চিনের সঙ্গে যৌথ সামরিক পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা শুরু করা দরকার।”

এই মন্তব্য শুধু বিতর্ক নয়, কূটনৈতিক উদ্বেগও বাড়াচ্ছে। কারণ, ফজলুর রহমান শুধু প্রাক্তন সেনাকর্তা নন, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিশনের প্রধানও ছিলেন। যদিও ঢাকার সরকারি মহল তাঁর মন্তব্যকে এড়িয়ে যেতে চাইছে। প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “এই মন্তব্য সম্পূর্ণ ফজলুর রহমানের ব্যক্তিগত মত। বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান এর সঙ্গে সম্পর্কহীন।”

উল্লেখ্য, এর আগেও বাংলাদেশ সরকারের ঘনিষ্ঠ মহল থেকে উত্তর-পূর্ব ভারত নিয়ে একাধিক আপত্তিকর বক্তব্য উঠে এসেছে। মার্চ মাসে চিন সফরে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ইউনুস ভারতের উত্তর-পূর্বকে ‘ল্যান্ড লকড অঞ্চল’ বলে অভিহিত করেন, যা ঘিরে ভারতীয় প্রশাসনিক মহলে অসন্তোষ তৈরি হয়।

Advertisement
ads ads

আরও পড়ুনঃ ধর্মের আড়ালে ষড়যন্ত্র! পাক সেনাকে খাওয়ানোর হুমকি দিল খলিস্তানপন্থী পান্নু

ফজলুর রহমান তাঁর দীর্ঘ পোস্টে আরও দাবি করেন, বিজেপি সরকারের মূল লক্ষ্য হল ভারতের মুসলমানদের অধিকার কেড়ে নেওয়া এবং নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করে দেশছাড়া করা। তিনি অভিযোগ তোলেন, ভারতে মুসলিমদের কবরস্থান, ওয়াকফ সম্পত্তি, মসজিদ-মাদ্রাসা—সবই আজ সংকটের মুখে। এমনকি নমাজ আদায়ে বাধাও দিচ্ছে সরকার, অভিযোগ তাঁর।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, ফজলুর রহমান দাবি করেছেন, পাহেলগাঁওয়ে সাম্প্রতিক হামলা আসলে ভারতেরই সাজানো ঘটনা—যার মাধ্যমে পাকিস্তানকে আক্রমণের ছক কষছে মোদী সরকার। এবং এই প্রেক্ষিতেই তিনি মনে করছেন, বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ানো ও ভারতের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক কৌশল তৈরি ‘অপরিহার্য’।

এই মন্তব্য নিয়ে ভারত সরকার যদিও এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি, তবে কূটনৈতিক মহলে উত্তেজনা বাড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে, বিশেষত এমন সময় যখন দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন আগেই দৃশ্যমান।

Advertisement
ads ads