বাংলাদেশ
বাংলাদেশে হিন্দুরা ভালো আছে, পুজো হয়েছে আনন্দে — বললেন তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন
ডিজিটাল ডেস্কঃ পূর্বপাড়ার দুর্গাপুজোর আবহে চারদিনের সফরে বাংলাদেশ (Bangladesh) ঘুরে এলেন মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের তৃণমূল (Trinamool) বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। কক্সবাজার থেকে শুরু করে নারায়ণগঞ্জ, সোনারগাঁ, ঢাকা (Dhaka) — একাধিক জায়গায় ঘুরে হুমায়ুন বললেন, “বাংলাদেশে হিন্দুরা ভালোই আছে।”
২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছে হুমায়ুন কবীর প্রথমে যান কক্সবাজার (Cox’s Bazar)। এরপর নারায়ণগঞ্জের (Narayanganj) সোনারগাঁয়ের বারদী চৌধুরীপাড়া গ্রামে গিয়ে ঘুরে দেখেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর (Jyoti Basu) পৈতৃক বাড়ি।
শনিবার তিনি ঢাকার ধানমন্ডি (Dhanmondi)-তে গিয়ে দেখেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি, যেখানে একসময় উগ্রবাদীদের হামলায় ব্যাপক ধ্বংস হয়েছিল। সেদিনই পদ্মা সেতু (Padma Bridge) পেরিয়ে নদীতে নৌকাবিহারও করেন তিনি। দুপুরে হোটেলে জমিয়ে খেয়েছেন বিভিন্ন মাছের পদ।
ঢাকা থেকে শনিবার রাতে টেলিফোনে ‘দ্য ওয়াল’-কে হুমায়ুন বলেন, “এই ক’দিন যত জায়গায় গিয়েছি, হিন্দুদের সঙ্গে কথা বলেছি, পুজো কমিটির (Puja Committee) সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নিপীড়নের (oppression) অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেই মনে হয়েছে।”
তাঁর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, দুর্গাপুজো (Durga Puja) নিয়ে হিন্দুদের মধ্যে কোনও ভয়ভীতি নেই। হুমায়ুন বলেন, “আমি যেসব পুজোমণ্ডপে গিয়েছি, সেখানকার উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন— গন্ডগোল হলে মুসলিম (Muslim) প্রতিবেশীরাই আগে এসে বাধা দেন। এটা দারুণ।”
এদিকে, সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস (Mohammad Yunus) এক আন্তর্জাতিক সাক্ষাৎকারে সংখ্যালঘু নিপীড়নের অভিযোগকে ‘ফেক নিউজ’ (fake news) বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ (Hindu Buddhist Christian Unity Council)।
তারা জানিয়েছে, ইউনুসের জমানায় ৩৩০ দিনে হিন্দুদের উপর ২০০০-রও বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি এবারের পুজোর আগেই ১৩টি জেলায় প্রতিমা ও প্যান্ডেলে হামলা হয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
শুধু তাই নয়, জেনেভায় রাষ্ট্রসংঘের (UN) বৈঠকে মানবাধিকার সংগঠন Rights and Risks Analysis Group-এর প্রধান সুহাস চাকমা (Suhas Chakma) দাবি করেন, এবারে বাংলাদেশে ৪৯টি পুজোমণ্ডপে হামলা হয়েছে।
এই আবহে হুমায়ুন কবীরের সফর ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চর্চা। বিজেপি (BJP) নেতা তরুণজ্যোতি তেওয়ারি ফেসবুকে কটাক্ষ করে লেখেন, “ওপারে জামাতিদের সঙ্গে দেখা করতে গেছিলেন নাকি?”
জবাবে হুমায়ুন বলেন, “কে কী বলল তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আমি রাজনীতির জন্য বাংলাদেশ যাইনি। ৩৬ বছর পর দেশে ফিরলাম, আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতেই এসেছি।”
তিনি আরও জানান, দেশভাগের সময় তাঁদের পরিবারের কিছু সদস্য পূর্ব পাকিস্তানে চলে গিয়েছিলেন। এখনও বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় আত্মীয়রা আছেন, তাঁদের সঙ্গেই সময় কাটাচ্ছেন।
পাশাপাশি তিনি বলেন, “অনেক জায়গায় প্রতিমা, রাস্তায় শোভাযাত্রা, মানুষের উৎসাহ দেখে মন ভালো হয়ে গেছে। পুজো একেবারে নির্ভয়ে এবং আনন্দে হয়েছে।”
তবে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার মুখের আদলে এপার বাংলার এক পুজোতে অসুরের মুখ গড়ায় বাংলাদেশি হিন্দুরা অসন্তুষ্ট হয়েছেন বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন। “হিন্দুদের বক্তব্য, এটা করা উচিত হয়নি। এতে অযথা বিতর্ক তৈরি হতে পারে।”


