ভাইরাল খবর
ভোটের কারণে এগিয়ে আসছে উচ্চ মাধ্যমিকের দ্বিতীয় সেমেস্টার পরীক্ষা! চিন্তায় শিক্ষক মহল
ডিজিটাল ডেস্কঃ আসন্ন বিধানসভা ভোটের (Election) কারণে উচ্চ মাধ্যমিকের দ্বিতীয় সেমেস্টার (Second Semester) পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ের আগেই নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ (Higher Secondary Council)। সেমেস্টার পদ্ধতির (Semester System) নিয়ম অনুযায়ী, ছ’মাস পাঠ শেষের পর পরীক্ষা হওয়ার কথা। সেই হিসেবে ২২ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া প্রথম সেমেস্টারের পর দ্বিতীয় সেমেস্টার পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল ১৬ মার্চ থেকে।
তবে ভোটের কথা মাথায় রেখে সেই সময়সীমা আগেই এনে ফেলতে হচ্ছে। ফলে পরীক্ষা ফেব্রুয়ারিতে আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর এতেই তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন ও উদ্বেগ। শিক্ষক মহলের আশঙ্কা, এত অল্প সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ সিলেবাস (Syllabus) শেষ করা কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠবে।
শিক্ষকদের মতে, প্রায় গোটা অক্টোবর মাসই স্কুল বন্ধ থাকছে। সরকারি ভাবে পঠনপাঠন (Academic Session) শুরু হবে ২৫ অক্টোবর থেকে। অর্থাৎ হাতে সময় থাকছে মাত্র তিন মাস বা তারও কম। তার মধ্যেই রয়েছে মাধ্যমিক পরীক্ষার টেস্ট (Test Exam), সামিটিভ (Summative) মূল্যায়ন, শীতের ছুটি (Winter Vacation), বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠান, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং সরস্বতী পুজোর মতো নানা কর্মসূচি।
নারায়ণদাস বাঙ্গুর স্কুল-এর প্রধান শিক্ষক বলেন, “নভেম্বর থেকে ক্লাস শুরু হলেও হাতে মাত্র ৯০ দিনের মতো সময় পাওয়া যাবে। এই অল্প সময়ে সিলেবাস শেষ করা অত্যন্ত কঠিন।”
পার্ক ইনস্টিটিউশন-এর প্রধান শিক্ষক সুপ্রিয় পাঁজা বলেন, “নতুন সিলেবাস অনুযায়ী প্র্যাকটিক্যাল (Practical) ও থিওরির (Theory) পুরো অংশ শেষ করা এত অল্প সময়ে অসম্ভব। তাই হয় সিলেবাস কমাতে হবে, নয়তো পরীক্ষা পিছোতে হবে।”
শিক্ষকরা আরও জানান, নভেম্বরে মাধ্যমিকের টেস্ট, ডিসেম্বরের সামিটিভ, জানুয়ারির সরকারি ছুটি ও নানা অনুষ্ঠানের কারণে ক্লাসের সংখ্যা অনেক কমে আসবে। এতে করে বাস্তবিক সময় ৭০–৭৫ দিনের বেশি পাওয়া যাবে না।
তবে এই সমস্ত যুক্তির মাঝেও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ সিলেবাস কমানোর বা পরীক্ষা পিছনোর কোনও পরিকল্পনা করছে না। সংসদের সচিব প্রিয়দর্শিনী মল্লিক বলেন, “সিলেবাস নিয়ে চিন্তা না করে পড়ুয়ারা যেন মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে। কাউন্সিল (Council) চেষ্টা করবে যাতে পরীক্ষার সময়ে কোনও অসুবিধা না হয়। তবে এখনই কোনও পরিবর্তনের প্রশ্ন নেই।”


