বিনোদন
বাঙালির হাতেই মহাভারত! কাল আসছে ‘কুরুক্ষেত্র’, কতটা ভরসা এই অ্যানিমেশনে?
ডিজিটাল ডেস্কঃ আসছে ‘কুরুক্ষেত্র’ (Kurukshetra)। মহাভারতের (Mahabharata) ব্যাখ্যা নয়, এক ভিন্ন ব্যঞ্জনা। বাঙালি পরিচালক উজান গঙ্গোপাধ্যায়ের (Ujan Gangopadhyay) হাতে তৈরি এই অ্যানিমেশন সিরিজ (Animation Series) স্ট্রিমিং হবে নেটফ্লিক্সে (Netflix), আগামীকাল থেকেই।
দীর্ঘ দু’বছরের রিসার্চ ও পরিশ্রমের ফসল এই সিরিজ। প্রযোজনায় হাই-টেক অ্যানিমেশন স্টুডিও (Hi-Tech Animation Studio), যেখানে প্রায় ৫০০ বাঙালি শিল্পী ও কর্মী এই প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন। স্ক্রিপ্টে সহযোগী বাবার মতোই পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, এবং পরামর্শদাতা হিসাবে আছেন নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ি। এমনকি প্রারম্ভিক কথিকা (Prologue) লিখেছেন গুলজার।
কেন এই চেনা মহাকাব্যে নতুন ভাষা? উজানের মতে, “অ্যানিমেশন আমাদের কল্পনাকে স্বাধীনতা দেয়। একজন বৃদ্ধা আর এক ছাত্রের চোখে অর্জুনের রূপ আলাদা হতেই পারে। বাস্তব চিত্রায়ণে তা ধরা কঠিন, কিন্তু অ্যানিমেশনে কল্পনার সেই জগত তৈরি সম্ভব।”
এই সিরিজে ১৮টি এপিসোড (Episodes) – প্রতিটি একেকটি বীরের দৃষ্টিকোণ থেকে বলা। এখানে শুধু যুদ্ধ নয়, উঠে এসেছে আত্মসন্ধান, নৈতিক দ্বন্দ্ব ও সম্পর্কের জটিলতা। যুদ্ধের থ্রিলিং অংশ যেমন আছে, তেমনি আছে যুদ্ধ-পূর্ব আলোচনার জটিল স্তর। সংস্থার সিইও আশিস থাপার জানালেন, ‘আমরা যুদ্ধের কাহিনিকে কেন্দ্র করলেও, মূল গল্প গড়ে উঠেছে প্রশ্ন আর কারণের অনুসন্ধানে।’
ভারতীয় অ্যানিমেশন ইন্ডাস্ট্রি (Animation Industry)-তে এখন পৌরাণিক গল্পের (Mythological Content) জয়জয়কার। ‘মহাবতার নরসিংহ’-এর মতো প্রজেক্ট প্রমাণ করেছে, অ্যানিমেশন কেবল শিশুদের জন্য নয়—এটা বড়দের ভাবনারও ক্ষেত্র। ‘কুরুক্ষেত্র’ সেই ধারাবাহিকতায় নতুন সংযোজন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের পুরাণ নিজেই এমন এক দৃশ্যত-সমৃদ্ধ রূপকথা, যা অ্যানিমেশনের জন্য আদর্শ। বাস্তব চরিত্র যেখানে সীমিত, অ্যানিমেশন সেখানে কল্পনার দ্বার খুলে দেয়।
বাংলায় তৈরি এই সিরিজ ৩৪টি ভাষায় অনুবাদ হয়ে ১৯০টি দেশে রিলিজ করতে চলেছে। এটা শুধু বাংলা সিনেমার নয়, ভারতীয় অ্যানিমেশনেরও এক মাইলফলক।


