গ্লাকসম্যানের বক্তব্য, যে নীতির ওপর ভিত্তি করে স্ট্যাচু অফ লিবার্টি আমেরিকাকে দেওয়া হয়েছিল, তা এখন সে দেশ হারিয়েছে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের কার্যকলাপে তিনি অসন্তুষ্ট। এক জনসমাবেশে তিনি বলেন, “এই মূর্তিটি যে মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করে, আমেরিকা তা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। স্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং গণতন্ত্রের প্রতি যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তা আজ লুপ্তপ্রায়। তাই এটি আমাদের ফিরিয়ে দেওয়া হোক।”
আরও পড়ুনঃ পুলিশের নিরাপত্তা দিতে সমস্যা ! ৬ এপ্রিলের আইপিএল ম্যাচ নিয়ে প্রশ্ন! বড় আপডেট
তবে, হোয়াইট হাউস এই দাবি সরাসরি নাকচ করেছে। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট জানান, “স্ট্যাচু অফ লিবার্টি আমেরিকারই অংশ এবং এটি ফেরানোর কোনও প্রশ্নই আসে না। আমেরিকার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত ফ্রান্সের, কারণ আমেরিকা না থাকলে ফরাসিদের হয়তো এখন জার্মান ভাষায় কথা বলতে হতো।” তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে এনে ফ্রান্স-আমেরিকা মিত্রতার গুরুত্বও স্মরণ করিয়ে দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ইউরোপের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠছে। ফ্রান্সসহ ইউরোপের বেশ কিছু দেশ ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ট্যাচু অফ লিবার্টি নিয়ে বিতর্ক শুধুমাত্র একটি প্রতীকি দাবি নয়, বরং এটি ইউরোপ-আমেরিকা সম্পর্কের বর্তমান টানাপোড়েনের প্রতিফলন।
ফ্রান্সের রাজনৈতিক মহল মনে করছে, গ্লাকসম্যানের দাবি সরাসরি বাস্তবায়ন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ইউনেস্কোও জানিয়েছে, এই মূর্তিটি বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত এবং এটি মার্কিন সরকারের সম্পত্তি। তবে, এই বিতর্ক যে আমেরিকার আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলবে, তা বলাই বাহুল্য।