দেশের খবর
অসুস্থ ‘ককরোচ’ প্রধান অভিজিৎ দীপকে! তবুও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা সিজেপি প্রধানের
ডিজিটাল ডেস্কঃ টাইফয়েডে (Typhoid) আক্রান্ত হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র সভাপতি অভিজিৎ দীপকে। শনিবার সকালে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় (Video Message) তিনি নিজেই জানান, গত কয়েকদিন ধরে অসুস্থ থাকার পর রক্ত পরীক্ষায় (Blood Test) তাঁর টাইফয়েড ধরা পড়েছে। বর্তমানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে এবং প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁকে আইভি ড্রিপ (IV Drip) নিতে হচ্ছে।
অসুস্থতার মধ্যেও আন্দোলন থেকে একচুলও সরে আসার ইঙ্গিত দেননি অভিজিৎ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। ভিডিও বার্তায় দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনে অংশ নেওয়া দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের, যাঁদের তিনি স্নেহ করে ‘ককরোচ’ বলে সম্বোধন করেন, তাঁদের ধন্যবাদও জানান তিনি।
অভিজিৎ বলেন, “গত কয়েকদিন ধরে আমি অসুস্থ ছিলাম। রিপোর্টে টাইফয়েড ধরা পড়েছে। চিকিৎসা চলছে, প্রতিদিন আইভি ড্রিপ নিতে হচ্ছে। কিন্তু দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ। এই আন্দোলনকে সফল করার জন্য সবাইকে অভিনন্দন। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিশ্চিত করা সম্ভব।”
উল্লেখ্য, নিট (NEET) প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহি এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছে। আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ে অনশন শুরু করেছিলেন সোনম। পরে তিনি অনশন প্রত্যাহার করলেও আন্দোলনের নেতৃত্বে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসেন অভিজিৎ দীপকে। গত ১৮ জুলাই থেকে তিনিও অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে, সোনমের অনশন প্রত্যাহারের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স (X)-এ তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানান। ককরোচ জনতা পার্টিও সেই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়। তবে দলের দাবি, সরকারের তরফে প্রকৃত সমাধান তখনই সম্ভব, যখন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধে জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দিল্লির আন্দোলনের প্রভাব ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। মুম্বই, বেঙ্গালুরু, পাটনার পাশাপাশি কলকাতাতেও প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়েছে। যদিও কলকাতায় পুলিশের অনুমতি না মেলায় সিজেপি নিজেদের আলাদা মিছিল প্রত্যাহার করে সমর্থকদের অন্যান্য ছাত্র-যুব সংগঠনের আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানায়। তবুও আন্দোলনকারীরা জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের মূল দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।
