দেশের খবর
ভারত-কানাডা সম্পর্কে উষ্ণতার বার্তা, নয়াদিল্লিতে এলেন কানাডার বিদেশমন্ত্রী অনিতা
ডিজিটাল ডেস্কঃ দীর্ঘ উত্তেজনার পর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে ভারত ও কানাডা। সেই আবহেই প্রথমবারের মতো সরকারি সফরে (official visit) ভারতে এলেন কানাডার ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিদেশমন্ত্রী অনিতা আনন্দ (Anita Anand)। রবিবার দু’দিনের সফরে নয়াদিল্লিতে (New Delhi) পা রাখেন তিনি।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল (Randhir Jaiswal) জানিয়েছেন, অনিতা আনন্দের সফর ভারত-কানাডা সম্পর্কের গতি ফের বাড়াতে সাহায্য করবে। এক্স-এ (X post) একটি ছবি শেয়ার করে তিনি লেখেন, “তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে। এই সফরের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক (bilateral) কূটনৈতিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা (economic cooperation) এবং জনগণের মধ্যে সংযোগ আরও দৃঢ় হবে।”
সোমবার নয়াদিল্লিতে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের (S. Jaishankar) সঙ্গে বৈঠকে বসবেন অনিতা আনন্দ। আলোচনার বিষয় হতে পারে বাণিজ্য বৈচিত্র্য (trade diversification), জ্বালানি রূপান্তর (energy transition), এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা (strategic security cooperation)। দিল্লি সফর শেষে মুম্বই (Mumbai) যাবেন তিনি, যেখানে কানাডায় ভারতের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের (investment & employment) বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
এই সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ কারণ, ২০২৩ সালে খলিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদী (Khalistani separatist) হরদীপ সিং নিজ্জরের (Hardeep Singh Nijjar) হত্যাকাণ্ডে ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন তৎকালীন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো (Justin Trudeau)। তার জেরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক চূড়ান্ত অবনতির মুখে পড়ে। কূটনীতিক প্রত্যাহার, কূটনীতিক বহিষ্কারের মতো ঘটনা সম্পর্কের টানাপোড়েনকে তীব্র করেছিল।
তবে মার্ক কার্নির (Mark Carney) প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ভারত-কানাডা সম্পর্কে বরফ গলতে শুরু করে। গত জুন মাসে জি-৭ (G7 Summit) সম্মেলনের ফাঁকে মোদী-কার্নির বৈঠকে সেই বার্তাই স্পষ্ট হয়। এরপর অগাস্টে একে অপরের দেশে হাইকমিশনার নিয়োগ করে উভয় দেশ। কানাডায় ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে নিযুক্ত হন দীনেশ পট্টনায়েক (Dinesh Patnaik) এবং দিল্লিতে আসেন ক্রিস্টোফার কুপার (Christopher Cooper)।
সেপ্টেম্বরে ভারতের সফরে আসেন কানাডার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা নাটালি ড্রুইন (Nathalie Drouin) এবং বিদেশ প্রতিমন্ত্রী সচিব ডেভিড মরিসন (David Morrison)। অনিতা আনন্দের এই সফর সেই প্রক্রিয়াকেই আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


