মালদা
ক্যান্সার আক্রান্ত ছেলে, আবেদন করেও স্বাস্থ্য সাথীর কার্ড হাতে না পেয়ে দিশেহারা পরিজনেরা
নিজস্ব সংবাদদাতা , হরিশ্চন্দ্রপুর , ২৪ ফেব্রুয়ারি : স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড হাতে না পেয়ে ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুকে চিকিৎসা করাতে না পেরে সমস্যা পরিজনেরা।জানা গিয়েছে, কয়েকমাস আগে হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার পিপলা গ্রামের বাসিন্দা বিষ্ণুদাসের তিনবছর বয়সী ছেলের ডানকানে ধরা পড়ে ক্যান্সার।
করোনায় ভিনরাজ্যে কাজ হারিয়ে নিজের এলাকায় এসে কোনমতে কাজ জুটিয়ে সংসার প্রতিপালন করছিলেন বিষ্ণূ দাস। এরমধ্যে ছেলের ক্যান্সার ধরা পড়লে গ্রামবাসীদের কাছে সাহায্য নিয়ে রায়গঞ্জে চিকিৎসা শুরু হয় ওই শিশুর।প্রাথমিক ভাবে মালদা, হরিশ্চন্দ্রপুর,চাঁচল,কাটিয়ার ও রায়গঞ্জে নিয়ে গিয়ে তার চিকিৎসা করানো হলেও ডাক্তারবাবুরা তাকে রেডিয়েশন থেরাপির পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত অপারেশন করার পরামর্শ দেন।অপারেশন করতে প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকা খরচ হবে বলে জানা গেছে।অন্যান্য খরচও রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় তিন লক্ষাধিক টাকা লাগবে। কিন্তু আর্থিক অনটনে তা করতে অপারগ তারা। ইতিমধ্যে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের জন্য আবেদন করলেও তা হাতে না পাওয়ায় মুশকিলে পড়েছেন তারা। শিশুটির বাবা বিষ্ণু দাস পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক।তিনি বলেন,” তিন চার মাস আগেই ছেলের ক্যান্সার ধরা পড়ে। রায়গঞ্জে চিকিৎসা করানো হচ্ছে। এখন নির্দিষ্ট তারিখ অনুযায়ী কেমো দিতে হচ্ছে। লোকে যা আর্থিক সাহায্য করেছিল তা দিয়ে এতদিন চিকিৎসা হয়েছে। এখন আর তার সামর্থ্য নেই। স্বাস্থ্য সাথী কার্ড এর আবেদন করা হলেও তা মেলেনি। কার্ডটি যাতে দ্রুত হাতে পান তার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন তিনি। শিশুটির দাদু অঞ্চল দাস বলেন, লোকের সাহায্য এতদিন নাতির চিকিৎসা হয়েছে। স্বাস্থ্য সাথী কার্ড আবেদন করার কুড়ি দিন হয়ে গেলেও এখনও কার্ড পাইনি। আসেনি কোন জনপ্রতিনিধি। অন্যদিকে হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লক তৃণমূল সভাপতি মানিক দাস জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য সাথীর কার্ড একটা পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে হয়।শিশুটির কথা আমি শুনেছি।ব্যক্তিগত ভাবে তাদের সাহায্য করা হয়েছে। দ্রুত যাতে তারা স্বাস্থ্যসাথি কার্ড পেয়ে যায় তার চেষ্টা করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
