লাভ জেহাদ ঠেকাতে মুসলিম ব্যবসায়ী তাড়ানোর হুঁশিয়ারি, নেতৃত্বে বিজেপি বিধায়কপুত্র
Connect with us

ভাইরাল খবর

লাভ জেহাদ ঠেকাতে মুসলিম ব্যবসায়ী তাড়ানোর হুঁশিয়ারি, নেতৃত্বে বিজেপি বিধায়কপুত্র

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) ইন্দোর (Indore) শহরের শীতলামাতা মার্কেট (Sheetla Mata Market) এখন কার্যত আতঙ্কের কেন্দ্রস্থল। মুসলিম (Muslim) ব্যবসায়ী ও কর্মীদের লক্ষ্য করে ‘শুদ্ধিকরণ অভিযান’ (Shuddhikaran Abhiyan) চালাচ্ছেন বিজেপি বিধায়ক (BJP MLA) মালিনী গৌরের ছেলে একলব্য সিং গৌর (Eklavya Singh Gaur)। তাঁর হুমকির জেরে ইতিমধ্যেই বাজারের প্রায় হাজারখানেক দোকান বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আতঙ্কে পসার গুটিয়েছেন বহু মুসলিম দোকানদার ও কর্মী।

একটি ব্যবসায়ী সংগঠনের বৈঠকে একলব্য প্রকাশ্যে বলেন, মুসলিম কর্মচারীদের (Muslim Workers) দু’মাসের মধ্যে তাড়াতে হবে। তাঁর দাবি, “লাভ জেহাদ (Love Jihad)” রুখতেই এই পদক্ষেপ। তিনি অভিযোগ তোলেন, মুসলিম সেলসম্যানরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে হিন্দু মহিলা ক্রেতাদের উত্ত্যক্ত করছেন, নম্বর নিয়ে তাঁদের মেসেজ করছেন। তাই মুসলিম কর্মীদের সরাতে হবে।

ব্যবসায়ী সংগঠনের এক নেত্রী জানান, সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, “কোনও দোকানে মুসলিম কর্মচারী রাখা যাবে না, মুসলিম মালিকানাধীন দোকানও খালি করতে হবে।” এমনকি মুসলিম কর্মীদের বিরুদ্ধে আধার কার্ড (Aadhaar) যাচাই ও নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করে লাভ জেহাদে জড়িত কিনা, তা খতিয়ে দেখার কথাও জানানো হয়েছে।

পাশাপাশি দাবি করা হচ্ছে, মুসলিম কর্মীদের তাড়িয়ে সেই জায়গায় হিন্দু বেকারদের (Hindu Unemployed Youth) কাজের সুযোগ করে দেওয়া হবে। তবে কেউ নির্দেশ না মানলে কী হবে, সেই প্রশ্নে স্পষ্ট কোনও উত্তর নেই। সংগঠনের নেতারা বলছেন, “আমরা বুঝিয়ে বলব। একলব্য ভাইয়া (Bhaiya) এটা আমাদের ভালর জন্যই করছেন।”

Advertisement
ads

সংশ্লিষ্ট অভিযানে একলব্যের পাশে রয়েছে বজরং দল (Bajrang Dal), বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP), এবং তিনি নিজেই হিন্দ রক্ষক সংগঠন (Hind Rakshak Organization)-এর আহ্বায়ক। পুলিশ কমিশনার (Police Commissioner) অমিত সিং জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ (Written Complaint) জমা পড়েনি। অভিযোগ এলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাজারে কর্মরত মুসলিম সেলসম্যানদের বক্তব্য, সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন। ২৮ বছর ধরে সেখানে কাজ করছেন এমন একজন, মহম্মদ শাহিদ জানান, “আমরা কারও নম্বর নিই না। মালিকরাই নম্বর নেন। কিন্তু এখন আমাদের জীবন-জীবিকাই বিপন্ন হয়ে পড়েছে।”

Advertisement
ads