বাংলাদেশ
সীমান্তে সন্তানসহ অন্তঃসত্ত্বা বউমাকে ফেলে পালাল শ্বশুর, গ্রেপ্তার বাংলাদেশি মহিলা
ডিজিটাল ডেস্কঃ ভরসা দিয়ে এনে প্রতারণা! সীমান্তে (Border) ফেলে দিয়ে চুপিচুপি পালালেন কাকা শ্বশুর (Uncle-in-law)। দুই খুদে সন্তান (Children) ও পেটে অনাগত সন্তান নিয়ে রাতভর পেট্রাপোল সীমান্তে অসহায় অবস্থায় কাটালেন এক অন্তঃসত্ত্বা (Pregnant) বাংলাদেশি (Bangladeshi) গৃহবধূ। কোনও বৈধ নথি (Valid Documents) না থাকায় সোমবার সকালে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পেট্রাপোল থানার (Petrapole Police Station) পুলিশ। আজ তাঁকে বনগাঁ মহকুমা আদালতে (Bongaon Sub-divisional Court) পেশ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত মহিলার নাম পারিমা আখতার (Parima Akhtar)। বাংলাদেশের চট্টগ্রামের (Chittagong) বাসিন্দা। প্রায় ছয় বছর আগে ভারতের মিলন শেখ (Milon Sheikh)-এর সঙ্গে বিয়ে হয় পারিমার। স্বামী মিলন ছোটবেলা থেকেই মায়ের সঙ্গে বাংলাদেশে থাকতেন। বিয়ের পরও পারিমার সংসার ছিল বাংলাদেশেই।
কিন্তু প্রায় ৯ মাস আগে মিলন পারিমাকে নিয়ে ভারতে চলে আসেন এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার (South 24 Parganas) ক্যানিং এলাকায় থাকতে শুরু করেন। এরপর থেকেই পারিমার অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির (In-laws) লোকেরা তাঁর উপর নির্যাতন শুরু করে এবং দেশে (Bangladesh) ফিরে যেতে চাপ দিতে থাকে। এর মধ্যেই ফের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন তিনি।
রবিবার সকালে পারিমাকে তাঁর বাপের বাড়ি (Parental Home) পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে কাকা শ্বশুর চাঁদ শেখ (Chand Sheikh) দুই সন্তান-সহ নিয়ে আসেন পেট্রাপোলে। সেখানকার একটি হোটেলে খাওয়ানোর পর ফল আনার নাম করে চুপিচুপি পালিয়ে যান তিনি। এরপর থেকে পারিমা তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির অন্যান্যদের বারবার ফোন করলেও কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।
বাচ্চাদের নিয়ে দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত সীমান্তের তিন নম্বর গেটের কাছে বসে থাকেন তিনি। সোমবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হওয়ায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পারিমা তাঁর অসহায়তার কথা জানান। এরপর পুলিশ এসে তাঁকে আটক করে। বৈধ নথি না থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। কী উদ্দেশ্যে তাঁকে ফেলে যাওয়া হল, এবং কোথায় গেল চাঁদ শেখ—তা জানার চেষ্টা চলছে।


