অপারেশন সিঁদুর
আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস মোকাবিলায় ভারত-কোরিয়া জোটের ডাক অভিষেকের গলায়
ডিজিটাল ডেস্কঃ সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অভিযানে ভারতের অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরতে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিওলে (Seoul) পৌঁছেছে একটি সর্বদলীয় প্রতিনিধি দল। সেই প্রতিনিধিদলে রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
সিওলের একটি আলোচনাসভায় বক্তৃতা রাখতে গিয়ে ভারত-কোরিয়া ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক সম্পর্কের দিকটি গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরেন তিনি। বক্তৃতায় অভিষেক বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (Rabindranath Tagore) লেখা ‘দ্য ল্যাম্প অব দ্য ইস্ট’ (The Lamp of the East) আজও কোরিয়ার মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান ধরে রেখেছে। এই কবিতা শুধু সাহিত্যের নিদর্শন নয়, বরং ভারত ও কোরিয়ার মধ্যে সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধনের এক জীবন্ত প্রমাণ।” পরে এক্স (X) প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করে তিনি জানান, “এই কবিতা আজও কোরিয়ার স্কুলপাঠ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।” উল্লেখ্য, ১৯২৯ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোরিয়াকে “পূর্বের আলো” হিসেবে আখ্যা দিয়ে ওই কবিতা রচনা করেছিলেন, যা কোরিয়ার জাতীয় চেতনার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।
As part of India’s All-Party Parliamentary Delegation, we began the first day of our outreach in Seoul with a detailed exchange with Ambassador @KumarAmitMEA, who outlined the roadmap for our Korea engagements and underscored India’s unflinching commitment to combat terrorism… pic.twitter.com/EdBCNXLwfY
— Abhishek Banerjee (@abhishekaitc) May 25, 2025
এই সফরে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাক্তন ভাইস মিনিস্টার, রাষ্ট্রদূত এবং থিঙ্ক ট্যাঙ্কের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন অভিষেক। আলোচনায় উঠে আসে শান্তি রক্ষা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সন্ত্রাস দমন ইস্যু। তাঁর কথায়, “সন্ত্রাসবাদ একটি বৈশ্বিক সমস্যা। ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় একযোগে কাজ করছে।”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল এর আগেও জাপান সফর করেছে। সেখানেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। একই সঙ্গে টোকিওতে (Tokyo) বিপ্লবী রাসবিহারী বসু (Rashbehari Bose) ও বিচারপতি রাধাবিনোদ পাল (Radhabinod Pal)-এর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।
সিওল সফরের পর এই প্রতিনিধি দল পাড়ি দেবে সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার উদ্দেশে। গোটা সফরের লক্ষ্য— আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী অবস্থানকে জোরদার করা এবং সাংস্কৃতিক কূটনীতিকে আরও মজবুত করা।
