দেশের খবর
ট্রাম্পের পর ভারত-পাক যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব দাবি করল চিন
ডিজিটাল ডেস্কঃ ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor)–এর পর ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষবিরতিতে (Ceasefire) কোনও তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা নেই—এই অবস্থান শুরু থেকেই স্পষ্ট করেছে নয়াদিল্লি। তবুও কৃতিত্ব দাবি থামেনি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) পর এবার একই দাবি সামনে আনল বেজিং। চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই (Wang Yi) জানালেন, গত মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে তৈরি হওয়া সামরিক উত্তেজনায় চিন ‘মধ্যস্থতা’ করেছে (China claims mediation)।
বেজিংয়ে আন্তর্জাতিক নীতি সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওয়াং ই বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এত ঘন ঘন স্থানীয় যুদ্ধ ও সীমান্ত সংঘর্ষ আগে দেখা যায়নি। এই অস্থির সময়ে চিন নাকি নিরপেক্ষ ও ন্যায়সঙ্গত অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছে। তাঁর দাবি, উত্তর মায়ানমার, ইরানের পরমাণু ইস্যু (Iran Nuclear Issue), প্যালেস্টাইন-ইজরায়েল সংঘর্ষের পাশাপাশি কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড এবং ভারত-পাকিস্তানের উত্তেজনাতেও মধ্যস্থতা করেছে চিন।
এই দাবি ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে, কারণ এপ্রিল মাসে পহেলগাঁও হামলার পর ভারত পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) জঙ্গিঘাঁটি লক্ষ্য করে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালায়। চার দিন টানা সংঘর্ষের পর দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছয় (India Pakistan conflict)। ভারত জানিয়েছে, পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস (DGMO) ভারতের DGMO-কে সরাসরি ফোন করেই সংঘর্ষবিরতির প্রস্তাব দেন। সংসদেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট করে বলেন, কোনও বিশ্বনেতা বা দেশ ভারতকে অভিযান থামাতে বলেনি।
চিনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আরও বাড়ে, কারণ সংঘর্ষ চলাকালীন বেজিং ভারতের অভিযানে ‘দুঃখজনক’ মন্তব্য করে এবং পাকিস্তানের প্রতি সামরিক সমর্থনের অভিযোগ ওঠে। ভারতীয় সেনার ডেপুটি চিফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাহুল আর সিং অভিযোগ করেন, চিন এই পরিস্থিতিকে ‘লাইভ ল্যাব’ (Live Lab) হিসেবে ব্যবহার করেছে।
তবুও ওয়াং ই দাবি করেছেন, ২০২৫ সালে ভারত-চিন সম্পর্ক (India China relations) উন্নতির পথে। তাঁর বক্তব্য, এসসিও (SCO) সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আমন্ত্রণ জানানোর পর থেকেই সম্পর্ক ইতিবাচক হয়েছে। তবে ভারত-পাক যুদ্ধবিরতি নিয়ে চিনের এই কৃতিত্ব দাবি নতুন করে কূটনৈতিক শোরগোল ফেলেছে।


