ডিজিটাল ডেস্কঃ করোনার কঠিন সময়েও আশার বীজ বপন করেছিলেন উত্তরবঙ্গের এক কৃষক। আজ সেই বীজই ফুলে ফেঁপে ভরে উঠেছে পলি হাউসের বিশাল বাগানে। রায়গঞ্জ ব্লকের বাজিতপুরের বাসিন্দা মনু চন্দ্র রায় (Manu Chandra Roy) দেখিয়ে দিয়েছেন, প্রযুক্তি ও সরকারি সহায়তার সদ্ব্যবহার করলে কৃষি হতে পারে আয়ের অন্যতম বড় মাধ্যম। খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প ও উদ্যান পালন দপ্তরের আর্থিক সাহায্যে উত্তরবঙ্গে তৈরি হয়েছে বৃহত্তম পলি হাউস, যা এখন ফুলচাষের দুনিয়ায় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

২০২১ সালে করোনা আবহে যখন অধিকাংশ মানুষ কর্মহীন, তখন নতুন কিছু করার কথা ভাবেন মনু চন্দ্র রায়। ইউটিউব ও অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও দেখে তিনি ফুলচাষের প্রতি আগ্রহী হন। সেই থেকেই শুরু হয় তার পথচলা। নিজের ৫ বিঘা জমিতে পুনে (Pune) থেকে চারা আনিয়ে ফুলচাষ শুরু করেন।

শুরুতে ১ হাজার স্কোয়ার মিটার এলাকায় একটি পলি হাউস নির্মাণ করেন মনু। খরচ হয় প্রায় ১০ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। লক্ষ্য ছিল সারা বছর ধরে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ফুল চাষ করা। এতে করে উৎপাদন যেমন বাড়ে, তেমনি গুণগত মানও বজায় থাকে। পলি হাউস প্রযুক্তি কৃষিকে আরও লাভজনক করে তুলছে বলে জানান তিনি।

পরে তিনি জানতে পারেন, রাজ্য সরকারের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প ও উদ্যান পালন দপ্তর (Department of Food Processing & Horticulture) এই ধরনের প্রকল্পে খরচের ৫০% আর্থিকভাবে সহায়তা প্রদান করে। সরকারি সাহায্যের আবেদন করেন মনু। এখনো পর্যন্ত তিনি ৪২ লক্ষ টাকা সাবসিডি পেয়েছেন। এই সহায়তা তাঁর কাজের পরিধি বাড়াতে সাহায্য করেছে।

বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার স্কোয়ার মিটার জায়গাজুড়ে রয়েছে বিশাল পলি হাউস। জার্বেরা ছাড়াও চাষ হচ্ছে গাঁদা, ব্যাঙ্গালোর গোলাপ সহ নানা রকম ফুল। প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১,৫০০ ফুল বাজারে যায়। রানাঘাট, শিলিগুড়ি, ইসলামপুর, রায়গঞ্জ ও মালদা থেকে শুরু করে এখন অর্ডার আসছে নেপাল ও মধ্যপ্রদেশ থেকেও।

প্রতি ফুল গড়ে ৭ টাকা দামে বিক্রি হয়। বছরে প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা লাভ হয় এই ফুলচাষ থেকে। শুধু নিজের পরিবারই নয়, গ্রামের একাধিক কর্মীও যুক্ত হয়েছেন এই বাগানে। পলি হাউস কৃষি কীভাবে কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে উঠেছে মনুর উদ্যোগ।

ইসলামপুর মহকুমা উদ্যান পালন দপ্তরের আধিকারিক অনিক মজুমদার (Anik Majumder) জানিয়েছেন, উত্তরবঙ্গে এমন বড় পলি হাউস এই প্রথম। মনুর সফলতা প্রমাণ করছে প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি কতটা উপযোগী। সরকারের তরফেও কৃষকদের পলি হাউস ও ফুলচাষে উৎসাহিত করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
চাষের এই রূপান্তরের গল্প আজ গোটা উত্তরবঙ্গের অনুপ্রেরণা। মনু চন্দ্র রায় যেন নতুন প্রজন্মের কাছে ‘ফুল চাষে ভবিষ্যৎ’-এর প্রতীক। রাজ্য সরকারের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প ও উদ্যান পালন দপ্তরের সচিব খুব শীঘ্রই মনু চন্দ্র রায়ের পলি হাউসের ভ্রমণে আসছেন।