প্রতারণা
জামার ব্যবসা নাকি জঙ্গি ডেরা? হাওড়ার এঁদো গলিতে মিলল ধৃত জঙ্গি হামিমের গোপন আস্তানার
ডিজিটাল ডেস্কঃ বর্ধমান থেকে গ্রেফতার হওয়া জইশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammed) জঙ্গি হামিম মণ্ডলের হাওড়ার গোপন ডেরার সন্ধান মিলেছে। পিলখানার (Pilkhan) একটি জীর্ণ গলির বহুতলে জামার ট্যাগ তৈরির ব্যবসার (Garment Tag Business) আড়ালে অন্য কোনও কার্যকলাপ চলত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
হাওড়ার আলম মিস্ত্রি লেনের ৭ নম্বর বাড়ির একতলায় দুটি ঘর ভাড়া নিয়ে প্রায় দু’বছর ধরে থাকত হামিম। স্থানীয়দের কাছে জায়গাটি একটি ছোট ব্যবসার কেন্দ্র বলেই পরিচিত ছিল। একটি ঘরে জামার ট্যাগ তৈরির প্রিন্টিং মেশিন (Printing Machine) রাখা ছিল, অন্য ঘরে ছিল কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তির (Information Technology) সরঞ্জাম।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই তথাকথিত অফিস থেকেই গোপনে কোনও নেটওয়ার্ক (Network) পরিচালনা করা হত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামিমের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা। তাঁর সঙ্গে কাশ্মীরের বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের (Militant Organisation) যোগাযোগের সূত্রও খুঁজে দেখছেন তদন্তকারীরা।
গোয়েন্দাদের নজরে এখন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—এই ডেরা থেকে কি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, জেলা সফরের রুট (Route) বা গতিবিধি (Movement) সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল? সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, হামিমের সঙ্গে এক ব্যক্তি ‘বাবা’ পরিচয়ে থাকতেন। তাঁর নাম মনিরউদ্দিন মণ্ডল। তবে হামিম গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে ওই ব্যক্তিরও কোনও খোঁজ নেই। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তিনি খুব বেশি কারও সঙ্গে মিশতেন না।
বাড়ির মালিকের দাবি, দুটি ঘরের জন্য যথাক্রমে ৭ হাজার ও ৪ হাজার টাকা ভাড়া নেওয়া হত। বর্তমানে ওই ঘর ও কম্পিউটার সিল করে তদন্ত চালাচ্ছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলি (Investigation Agencies)।
তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, এটি শুধুই আত্মগোপনের জায়গা ছিল, নাকি এখান থেকেই বড় কোনও নাশকতার (Sabotage) পরিকল্পনা করা হচ্ছিল।
