প্রতারণা
সোশ্যাল মিডিয়ার রিল থেকে সোজা জঙ্গিযোগ! ধৃত হামিমের বান্ধবী অর্পিতার ভয়ংকর কাণ্ড ফাঁস করল এসটিএফ
ডিজিটাল ডেস্কঃ জঙ্গি যোগে ধৃত হামিম মণ্ডল (Hamim Mondal)-কে জেরা করে ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী অর্পিতা সরকার (Arpita Sarkar)-কে। রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এর দাবি, দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পাশাপাশি দু’জনকে ব্যবহার করে বড়সড় হানিট্র্যাপ (Honey Trap) ও ব্ল্যাকমেল (Blackmail) চক্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
তদন্তকারীদের দাবি, প্রায় চার বছর আগে ইনস্টাগ্রাম (Instagram)-এর মাধ্যমে হামিম ও অর্পিতার পরিচয় হয়। পরে সেই সম্পর্ক প্রেমে গড়ায়। হামিম নিজেকে ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দিত। ধীরে ধীরে অর্পিতাকে পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যুক্ত করা হয় বলেই সন্দেহ তদন্তকারীদের। এসটিএফের দাবি, পাকিস্তানি জঙ্গি শাহজাদ ভাট্টি (Shehzad Bhatti) ও আইএসআই (ISI)-ঘনিষ্ঠ নেটওয়ার্কের নির্দেশে অর্পিতাকে বিভিন্ন টার্গেটের সঙ্গে যোগাযোগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
তদন্তে উঠে এসেছে, হাওড়ার এক মন্ত্রীর ছেলের সঙ্গে প্রায় চার মাস ধরে সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media)-য় যোগাযোগ রেখে তাঁকে হানিট্র্যাপে ফেলার চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ, পরে অপহরণ (Kidnap) করে মুক্তিপণ আদায়েরও পরিকল্পনা ছিল। শুধু একজন নয়, আরও কয়েকজনকে একই কৌশলে ফাঁসানোর চেষ্টা হয়েছিল বলেও সন্দেহ গোয়েন্দাদের।
এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, ছোটবেলা থেকেই মডেলিংয়ের শখ ছিল অর্পিতার। বাইক চালানো এবং রিল (Reels) তৈরিতেও তিনি পরিচিত ছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর একাধিক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এই জনপ্রিয়তাকেই কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করা হত।
ধৃত অর্পিতার কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে। সেগুলি ফরেনসিক (Forensic) পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। ডিলিট হওয়া চ্যাট (Chat), সন্দেহজনক যোগাযোগ এবং পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে সম্ভাব্য সংযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে ‘রানা’, ‘উজেইর’, ‘আবিদ জাট’, ‘হামাদ’-সহ একাধিক সন্দেহভাজন পাকিস্তানি হ্যান্ডলের নাম উঠে এসেছে।
অন্যদিকে হামিমের মোবাইল থেকেও টেলিগ্রাম (Telegram), হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে সন্দেহজনক কথোপকথনের তথ্য মিলেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। বর্তমানে দু’জনের বিরুদ্ধেই ইউএপিএ (UAPA)-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। তবে অর্পিতা স্বেচ্ছায় এই চক্রে যুক্ত হয়েছিলেন, নাকি মগজধোলাই (Brainwashing) করে তাঁকে কাজে লাগানো হয়েছিল— তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ বলে জানিয়েছে এসটিএফ।
