ভাইরাল খবর
বরুণ বিশ্বাস খুনে ‘ষড়যন্ত্রকারী’ মমতা! নতুন এফআইআর-এর আবেদন, ৩১ আগস্ট শুনানি
ডিজিটাল ডেস্কঃ সুটিয়া (Sutia) গণধর্ষণ ও নারী নির্যাতন কাণ্ডের প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস (Barun Biswas) হত্যাকাণ্ডে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বরুণ বিশ্বাস খুনের ঘটনায় পুনর্তদন্তের দাবি তুলে বনগাঁ পুলিশ সুপারের (Superintendent of Police) কাছে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন তাঁর সহযোদ্ধা এবং শিক্ষক (Teacher) নন্দদুলাল দাস। অভিযোগপত্রে তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee), প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (Jyotipriya Mallick)-সহ একাধিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে তাঁদের ‘ষড়যন্ত্রকারী’ বলে দাবি করেছেন।
গত মঙ্গলবার বনগাঁ পুলিশ সুপার বিদিশা কলিতা দাশগুপ্তের কাছে পাঠানো চিঠিতে নন্দদুলাল দাস আবেদন করেন, তাঁর অভিযোগকে এফআইআর (FIR) হিসেবে গ্রহণ করে গোটা ঘটনার নতুন করে তদন্ত (Reinvestigation) করা হোক।
নন্দদুলালের অভিযোগ, ২০১২ সালে বরুণ বিশ্বাস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত তদন্ত হয়নি। তাঁর দাবি, সেই সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে মূল ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বরুণ বিশ্বাস হত্যার প্রতিবাদ করায় তাঁকেও বিভিন্ন সময়ে ভয় দেখানো, হয়রানি করা এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর চেষ্টা হয়েছিল।
অভিযোগপত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ছাড়াও আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি দাবি করা হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রে আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারেন।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৫ জুলাই উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙা (Gobardanga) স্টেশনের কাছে দুষ্কৃতীদের গুলিতে নিহত হন শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস। সুটিয়া গণধর্ষণ কাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার কারণে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে তাঁর পরিবার।
সম্প্রতি বরুণ বিশ্বাসের পরিবার মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি ও সঠিক বিচারের দাবিতে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। এরপর মামলায় বিশেষ সরকারি আইনজীবী (Special Public Prosecutor) নিয়োগ করা হয়েছে এবং তদন্তে নতুন করে গতি এসেছে।
অন্যদিকে, বরুণ বিশ্বাসের দিদি প্রমীলা রায় বিশ্বাস জানিয়েছেন, নন্দদুলাল দাস তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। এই বিষয়ে বিশ্বাস পরিবারের আলাদা কোনও মন্তব্য বা অবস্থান নেই।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগপত্রকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করা হবে কি না, তা আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসারেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মামলার পরবর্তী শুনানিকে ঘিরে এখন নজর রয়েছে তদন্তের অগ্রগতির দিকে।
