ডিজিটাল ডেস্কঃ নিট প্রশ্নফাঁস (NEET Paper Leak) বিতর্ক ঘিরে উত্তপ্ত সংসদ (Parliament)। বিরোধীদের তুমুল বিক্ষোভ ও বারবার অধিবেশন (Session) মুলতুবির মধ্যেই বৃহস্পতিবার কেন্দ্রের তরফে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হল। সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু (Kiren Rijiju) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নিট ইস্যুতে আলোচনা করতে সরকার প্রস্তুত, তবে কোনও পূর্বশর্ত (Precondition) মানা হবে না।
লোকসভায় রিজিজু বলেন, বিরোধীরা নিজেরাই ঠিক করুন কবে, কতক্ষণ এবং কীভাবে আলোচনা করতে চান। সরকারের পক্ষ থেকে সেই আলোচনায় কোনও আপত্তি নেই। তবে আলোচনার আগে কোনও শর্ত চাপিয়ে দিলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানান তিনি।
রিজিজুর বক্তব্য, “যে দিন, যে সময়ে এবং যতক্ষণ আলোচনা করতে চান, সরকার রাজি। কিন্তু শর্ত বা অজুহাত দিলে দেশের মানুষ বুঝবে আপনারা আলোচনা এড়িয়ে যেতে চাইছেন।” এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) নিট প্রশ্নফাঁস মামলায় দ্রুত বিচারের জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালত (Fast Track Court) গঠনের কথা জানান। তিনি বলেন, পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) তিনটি দাবি সামনে আনেন। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Dharmendra Pradhan) পদত্যাগ, ক্ষতিগ্রস্ত পড়ুয়াদের কাছে সরকারের ক্ষমা চাওয়া এবং ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। বৃহস্পতিবারও নিট ইস্যুতে বিরোধীদের প্রতিবাদের জেরে লোকসভার কার্যক্রম ব্যাহত হয়। প্রথমে দুপুর ১২টা এবং পরে বেলা ২টো পর্যন্ত অধিবেশন মুলতুবি করেন স্পিকার ওম বিড়লা (Om Birla)। সংসদের বাইরে মকর দ্বারের (Makar Dwar) সামনে ইন্ডিয়া জোটের (INDIA Alliance) সাংসদরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান। পাল্টা এনডিএ (NDA) সাংসদরাও ধর্নায় বসেন। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দেশের যুবসমাজকে বিভ্রান্ত করছেন রাহুল গান্ধী।
কেন্দ্রের বক্তব্য, নিট-সহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে রাজনৈতিক সংঘাত নয়, বরং সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। তবে বিরোধীরা নিজেদের দাবিতে অনড় থাকায় সংসদের অচলাবস্থা এখনও কাটেনি।