রাজ্যের খবর
বাঁকুড়ায় হাজার কোটির বিনিয়োগ, বাইরে যাওয়া যুবকদের ফেরাতে বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর
বাঁকুড়া: রাজ্যের প্রান্তিক জেলাগুলোতে শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থানের (Employment) জোয়ার আনতে এবার এক বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার বাঁকুড়ায় শ্যাম স্টিলের একটি নতুন ইউনিটের (New Unit) শিলান্যাস অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এখানে হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হতে চলেছে। এর ফলে প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থান হবে।” বাঁকুড়া, পুরুলিয়া থেকে শুরু করে বীরভূমের মতো জেলাগুলিতে শিল্পের চাকা ঘোরানোর লক্ষ্যে রাজ্য যে এবার কোমর বেঁধে নামছে, তা এদিন তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, প্রান্তিক জেলাগুলিতে যদি বড় শিল্প (Large-scale Industry) না আনা যায়, তবে রাজ্যের সামগ্রিক পরিকাঠামোগত উন্নয়ন (Infrastructure Development) থমকে যাবে। একই সঙ্গে থমকে যাবে অনুসারী শিল্পের (Ancillary Industry) বাড়বাড়ন্তও।
‘হাজার হাজার ছেলে বাইরে চলে গেছে, ফিরাতেই হবে’
এদিন রাজ্যের কর্মসংস্থান এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের (Migrant Workers) সমস্যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম—এইসব জায়গায় শিল্প না আনতে পারলে এখানকার সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। এর ফলে যেটা হচ্ছে, এই অঞ্চলের প্রত্যেকটা গ্রাম থেকে হাজার হাজার ছেলে কাজের খোঁজে বাইরের রাজ্যে চলে গেছে।”
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই বৃহৎ বিনিয়োগের (Huge Investment) হাত ধরে যেমন পরিযায়ী যুবকদের ঘরের ছেলে ঘরে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে, তেমনই রাজ্যের নিজস্ব অর্থনীতির (Economy) ভিত আরও মজবুত হবে।
রাজস্ব বাড়বে রাজ্যের, শুভ উদ্যোগ
শিল্পের হাত ধরে কীভাবে রাজ্যের কোষাগার সমৃদ্ধ হবে, এদিন সেই খতিয়ানও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বড় শিল্প গড়ে উঠলে বিদ্যুৎ থেকে শুরু করে জল—সব ক্ষেত্র থেকেই সরকারের নিজস্ব রেভিনিউ বা রাজস্ব (Revenue) আদায় বাড়বে। যা পরোক্ষভাবে পশ্চিমবঙ্গের আর্থিক বুনিয়াদকে আরও শক্তিশালী করবে।
সব মিলিয়ে এই নতুন বিনিয়োগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, “সেই কারণেই এটা একটা অত্যন্ত বড় উদ্যোগ, শুভ উদ্যোগ এবং বাংলার পক্ষে অত্যন্ত ভাল উদ্যোগ।” রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলের মতে, প্রান্তিক জেলাগুলিতে শিল্পের প্রসার ঘটিয়ে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে ফেরানোই এখন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা সেই লক্ষ্যপূরণের দিকেই এক বড় পদক্ষেপ।
