দেশের খবর
ইনস্টাগ্রামের আপত্তিকর বিজ্ঞাপন নিয়ে সরব কেন্দ্র! মেটাকে চরম আলটিমেটাম দিল মোদি সরকার
ডিজিটাল ডেস্কঃ ইনস্টাগ্রাম (Instagram) সহ সমস্ত প্ল্যাটফর্ম থেকে শিশুদের যৌন শোষণ ও নিগ্রহ সংক্রান্ত সমস্ত কনটেন্ট এবং বিজ্ঞাপন অবিলম্বে সরানোর জন্য মেটা (Meta)-কে কড়া নির্দেশ দিল কেন্দ্র সরকার। ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের (MeitY) তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ডিজিটাল দুনিয়ায় শিশুদের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো রকম আপস করা হবে না। এই ধরনের আপত্তিকর পেইড বিজ্ঞাপন (Paid Advertisement) কীভাবে ছাড়পত্র পেল, তা নিয়ে আগামী ৭ দিনের মধ্যে মেটার কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি (BBC)-র একটি অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। সেখানে দেখা যায়, মেটার রেকমেন্ডেশন অ্যালগরিদম (Recommendation Algorithm) ব্যবহার করে ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে ‘ধর্ষণের ভিডিও’ বা ‘শিশু ভিডিও’-র মতো ইঙ্গিতপূর্ণ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে অর্থের বিনিময়ে বিজ্ঞাপন চালানো হচ্ছিল। এই বিজ্ঞাপনের লিঙ্ক ধরে ব্যবহারকারীদের সরাসরি টেলিগ্রাম (Telegram) চ্যানেলে নিয়ে যাওয়া হতো এবং সেখানে মাত্র ৯৯ টাকার বিনিময়ে শিশুদের যৌন নির্যাতনের অবৈধ কনটেন্ট বিক্রি করা হতো। মেটার নিজস্ব বিজ্ঞাপন নীতি (Ad Policy)-তে নগ্নতা ও যৌনতা স্পষ্ট নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই প্রচার চলল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মোদি সরকার।
কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের নির্দেশের পর সক্রিয় হওয়া মন্ত্রক জানিয়েছে, অর্থের বিনিময়ে প্রচারিত বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে মেটা ‘তৃতীয় পক্ষের কনটেন্ট’ (Third Party Content) বলে দায় এড়াতে পারে না, কারণ এর থেকে প্ল্যাটফর্মের আয় হয়। যদি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জুকারবার্গের সংস্থা সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হয়, তবে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইন (IT Act)-এর ৬৭বি ধারা এবং ২০১২ সালের পকসো (POCSO) আইনের অধীনে মেটার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ (Legal Action) করা হবে।
যদিও মেটার দাবি, চাইল্ড অ্যাবিউস সংক্রান্ত বিষয়ের বিরুদ্ধে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ (Zero Tolerance) নীতি রয়েছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির মাধ্যমে তারা নিয়মিত এই ধরনের কনটেন্ট মুছে ফেলার কাজ করে। প্রসঙ্গত, চলতি সপ্তাহেই হোয়াটসঅ্যাপের নতুন ‘ইউজারনেম’ (Username) ফিচার নিয়ে অনলাইন জালিয়াতি ও পরিচয় ভাঁড়ানোর (Impersonation) আশঙ্কায় মেটাকে নোটিশ পাঠিয়েছিল কেন্দ্র। এবার শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত এই গুরুতর গাফিলতির অভিযোগে মেটার ওপর চাপ আরও বাড়ল।
