বিশ্বের খবর
মায়ানমারে জান্তা সরকারের নৃশংসতা! ৬ মাসে ৭০২ বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে, জানাল রাষ্ট্রসংঘ
ডিজিটাল ডেস্কঃ মায়ানমারে সেনা শাসনের (Military Rule) জাঁতাকলে পিষ্ট সাধারণ মানুষের রক্তক্ষরণ কিছুতেই থামছে না। দেশটির সাধারণ নির্বাচনের (General Election) পরবর্তী ছয় মাসে জান্তা সরকারের হামলায় ৭০০ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। সোমবার রাতে রাষ্ট্রসংঘের (United Nations) দেওয়া একটি নতুন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের মধ্যে অন্তত ৭০২ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই নিহতদের মধ্যে ২২৪ জন নারী (Women) এবং ১৫৩টি শিশু (Children) রয়েছে।
রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত বিভাগের মুখপাত্র (Spokesperson) রাভিনা শামদাসানি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রধান বিরোধী দলগুলোকে বাদ দিয়ে আয়োজিত এই নির্বাচনকে বিশ্ববাসী একটি প্রহসন (Farce) হিসেবে দেখছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, সাধারণ নাগরিকদের ওপর নির্বিচারে বিমান থেকে বোমাবর্ষণ (Air Strikes) করা হয়েছে। বিশেষ করে সাগাইং অঞ্চলটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যেখানে শুধু একটি এলাকাতেই সামরিক অভিযানে ১৯১ জন বেসামরিক মানুষ মারা গেছেন। গত অক্টোবর মাসে সাগাইংয়ের একটি বিদ্যালয়ের সামনে উৎসবমুখর পরিবেশের ওপর জান্তা বাহিনী বোমাবর্ষণ করলে চার শিশুসহ ২৩ জন নিহত হন। মিন অং হ্লাইং একটি সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে গত এপ্রিলে দেশটির রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগে ছিলেন সেনা প্রশাসনের প্রধান। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি প্রথম ভারত সফরে আসেন।
২০২১ সালে নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চি-কে বন্দি করে ক্ষমতা দখল করা জান্তা বাহিনী বর্তমানে বাধ্যতামূলক সামরিক আইন জারি করেছে। গত এপ্রিলে অভ্যুত্থানের প্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং নিজেকে দেশের প্রেসিডেন্ট (President) ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক আফসোস করে বলেন, মায়ানমারের মানুষ নিজ দেশের সামরিক বাহিনীর হাতে চরম নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর এখন বিশ্ববাসীর কাছ থেকেও প্রায় ভুলে যাওয়ার পরিস্থিতিতে পড়েছেন। দেশটিতে বর্তমানে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার (Humanitarian Aid) পরিমাণ কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও অনেক বেড়ে গেছে।
