রাজনীতি
“কোটি কোটি কালো টাকা ঢুকতে পারে”! ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ করার দাবি বিদ্রোহী শিবিরের
ডিজিটাল ডেস্কঃ ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও ভাঙনের আঁচ এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল দলের কোষাগারে। দলের অফিশিয়াল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকার বেআইনি ‘কাটমানি’ বা কালো টাকা ঢুকতে পারে, এই বিস্ফোরক আশঙ্কা প্রকাশ করে অ্যাকাউন্টটি অবিলম্বে ‘ফ্রিজ’ (Freeze) বা লেনদেন বন্ধ করার দাবি তুললেন বিধানসভায় ‘আসল তৃণমূল’-এর বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)। এই মর্মে বৃহস্পতিবার রাতে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের সাইবার ক্রাইম শাখায় লিখিত অভিযোগ (Complaint) দায়ের করেছেন ‘ঋতব্রতপন্থী’ ১০ জন বিধায়ক।
বিদ্রোহী বিধায়কদের দাবি, এইচডিএফসি (HDFC) ব্যাঙ্কের সেন্ট্রাল প্লাজা শাখার তিনটি নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে অসদুপায়ে অর্জিত বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ লেনদেনের আশঙ্কা রয়েছে। তাঁরা ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং তথ্য প্রযুক্তি (IT) আইনের একাধিক কঠোর ধারা উল্লেখ করে অবিলম্বে ব্যাংক রেকর্ড ও কেওয়াইসি (KYC) বিশদ খতিয়ে দেখার আর্জি জানিয়েছেন। এর আগে, নিজেকে দলের কোষাধ্যক্ষ দাবি করে প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসও (Arup Biswas) চেকে সই করার অপব্যবহার রুখতে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে লেনদেন বন্ধের চিঠি পাঠিয়েছিলেন।
যদিও তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন, গত ৫ জুনের সাংগঠনিক রদবদলে অরূপ বিশ্বাসের জায়গায় শুভাশিস চক্রবর্তীকে নতুন কোষাধ্যক্ষ (Treasurer) করা হয়েছে। তাই এই চিঠির কোনও আইনি সারবত্তা (Legal Validity) নেই। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০ জন লোকসভা সাংসদ ইতিমধ্যে দল ছেড়ে এনসিপিআই (NCPI)-তে যোগ দেওয়ায় প্রতীক ও তহবিল দখলের এই লড়াই আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। এই ঘটনাকে কটাক্ষ করে বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ সমগ্র বিষয়ে ইডি (ED) তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
