ভাইরাল খবর
মমতার নাকের ডগায় চরম বিদ্রোহ! দিল্লিতে তৃণমূলের ডজনখানেক বিক্ষুব্ধ সাংসদের গোপন বৈঠক
ডিজিটাল ডেস্কঃ দিল্লিতে যখন বিজেপি-বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের মেগা বৈঠক চলছে, ঠিক তখনই রাজধানীর বুকে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এক নজিরবিহীন ও ভয়ংকর বিদ্রোহের ছবি সামনে এল। একদিকে কনস্টিটিউশন ক্লাবে সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর পাশে বসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে (Election) পাখির চোখ করে ‘একের বিরুদ্ধে এক’ প্রার্থীর রণকৌশল তৈরিতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই তাঁর নাকের ডগায় এক ডজন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদ গোপনে মেগা বৈঠকে বসলেন। এই ঘটনায় বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র চাঞ্চল্য ও ভাঙনের জল্পনা তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে বড় চমক তৈরি হয়েছে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের হাতে আসা একটি ছবি ঘিরে। সোমবার সকালে দল ও রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরেই প্রবীণ নেতা সুখেন্দুশেখর রায়কে এই বিক্ষুব্ধ শিবিরে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, দিল্লির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সরকারি বাসভবনে (Residence) এই গোপন বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী (Chief Minister) শুভেন্দু অধিকারীও। বৈঠকে শর্মিলা সরকার, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়া, কালিপদ সোরেন, অরূপ চক্রবর্তী, শতাব্দী রায় এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদারসহ প্রায় ১২ জন সাংসদের উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভায় দলত্যাগবিরোধী আইন (Anti-Defection Law) এড়াতে তৃণমূলের মোট সাংসদের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ প্রায় ২২ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। বিক্ষুব্ধরা এখনই আইনি জটিলতায় না জড়িয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা (Majority) অর্জনের জন্য আরও কিছুটা সময় নিতে পারেন। বিধানসভায় ইতিমধ্যেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৫৮ জন বিধায়ক আলাদা ব্লক তৈরি করেছেন। লোকসভার এই বিদ্রোহী সাংসদেরাও অভিষেকের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়ায় এবার দিল্লিতে ‘ঋতব্রত মডেল’ অনুসরণ করে নতুন সংসদীয় ব্লক (Parliamentary Block) তৈরির ছক কষছেন বলে খবর।
